২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথ আয়োজক) অফিসিয়াল বল উন্মোচন করেছে ফিফা। জার্মানির হার্জোগেনাউরাখ শহরে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় বলটির নাম— ‘ট্রিওন্ডা’ (Trionda)।
চার প্যানেলের নতুন নকশায় তৈরি এই বলটিতে প্রতিফলিত হয়েছে আয়োজক তিন দেশের ঐক্য। প্রতিটি প্যানেলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তারকা, কানাডার ম্যাপল পাতার প্রতীক এবং মেক্সিকোর ঈগল। লাল, নীল ও সবুজ রঙ মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে এর ত্রিভুজাকৃতি কেন্দ্রীয় নকশা, যা তিন দেশের প্রতীকী বন্ধনকে তুলে ধরে।
‘ট্রিওন্ডা’ বলের সবচেয়ে বড় নতুনত্ব হলো চিপ সংযোজন, যা বলের প্রতিটি নড়াচড়া ও স্পর্শের তথ্য রিয়েল-টাইমে পাঠাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে এই তথ্য ব্যবহার করে রেফারিরা দ্রুত অফসাইড ও হ্যান্ডবলসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
গোল্ডেন ডিটেইল দিয়ে সাজানো এই বলে উন্নত এরোডাইনামিক নকশা এবং গভীর সেলাই করা হয়েছে, যা বলকে আরও ভাসমান এবং স্থিতিশীল করবে বলে জানাচ্ছে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ১৯৩০ সালের উরুগুয়ে বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে প্রতিটি আসরেই আলাদা বল ব্যবহার হয়েছে, যেখানে প্রতিটি সংস্করণে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তি ও আয়োজক দেশের সংস্কৃতির ছোঁয়া।
২০০২ সালে কোরিয়া-জাপান আসরে ‘ফিভারনোভা’ দিয়ে যে প্রযুক্তিগত বিপ্লব শুরু হয়েছিল, তা চলমান ধারাবাহিকতায় এবার ‘ট্রিওন্ডা’ নিয়ে এসেছে আরেকটি যুগান্তকারী পরিবর্তন। উল্লেখ্য, আগামী বছরের ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশের ১৬টি শহরে বসবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আসর। এক মাসের বেশি সময় ফুটবল লড়াই শেষে টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই।