গাজায় ফের ত্রাণবাহী নৌযান পাঠানোর ঘোষণা ফ্লোটিলার

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সর্বশেষ নৌযানটিকেও ইসরাইলি বাহিনী আটক করেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে লাইভস্ট্রিম ভিডিওর মাধ্যমে দেখা যায়, ইসরাইলি কমান্ডোরা জাহাজটিতে প্রবেশ করে এর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে, বৃহস্পতিবার ফ্লোটিলার একটি বাদে সকল জাহাজ আটকের দাবি করে ইসরাইল।

এদিকে, ফিলিস্তিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর জোট ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) গাজায় আরও ত্রাণ সাহায্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে জানানো হয়, ইতালি ও ফ্রান্সের পতাকাবাহী দুটি নৌযান গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইতালির ওৎরান্তো বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর আরও ৯টি নৌযান যাত্রা শুরু করে। শিগগিরই এগুলো অগ্রবর্তী জাহাজগুলোর সাথে মিলিত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বহর হিসেবে যাত্রা করবে।

এফএফসি-এর বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন এই বহরের ১১টি নৌযানে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রু সদস্য রয়েছেন। ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসানতারা-এই চার সংগঠনের জোট হলো এফএফসি। ২০০৮ সালে গঠিত এই জোট গত ১৭ বছরে বেশ কয়েকবার গাজায় ত্রাণ সাহায্য পাঠিয়েছে।

গত আগস্ট মাসে গাজায় খাদ্য ও ওষুধসহ ৪৩টি নৌযান পাঠানোর ঘোষণা দেয় এফএফসি জোট। এই মিশনের নাম দেওয়া হয় ‌‌‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা, বাংলাদেশের শহিদুল আলমসহ ৪৪টি দেশের ৫০০ জন নাগরিক এই মিশনে অংশ নেন। এদের মধ্যে সংসদ সদস্য, আইনজীবী, রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ছিলেন।

গত ৩১ আগস্ট স্পেনের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। কিন্তু গাজার সমুদ্রসীমার কাছে পৌঁছানোর পরপরই  সবগুলো ত্রাণবাহী জাহাজকে আটক করে ইসরাইলের নৌবাহিনী। আটককৃত নৌযান, ক্রু এবং আরোহীদের নিয়ে যাওয়া হয় ইসরায়েলের বন্দরে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ত্রাণবহর আটকে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ হচ্ছে; কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ পাত্তা দিচ্ছে না। এর মধ্যেই নতুন ত্রাণ বহর পাঠানোর ঘোষণা দিলো এফএফসি।