সমতলের সর্বোচ্চ ভূমিতে ‘ভূঁইয়া ইম্পেরিয়াম’ 

প্রকৌশলী এসএম আবু সুফিয়ান

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এপিক প্রপার্টিজ

দেশ রূপান্তর : চট্টগ্রাম শহরে পাহাড়ের ওপর সবচেয়ে বেশি ভবন নির্মাণ করেছে এপিক। আপনারা পাহাড়ে ভবন নির্মাণে এতে আগ্রহী কেন?

প্রকৌশলী এসএম আবু সুফিয়ান : আমরা প্রকৌশলী। আর প্রকৌশলীবিদ্যায় যেকোনো স্থানেই আমরা আমাদের মুনশিয়ানা দেখাতে পারি। এই শহরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের বিপরীতে চট্টেশ্বরী এলাকায় ‘এপিক অঙ্গন’ কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে। পরে খুলশীর নাসিরাবাদ প্রপার্টিজের পাহাড়ের চূড়ায় একাধিক বহুতল ভবন করা হয়েছে। আর সব ভবনে পার্কিং করা হয়েছে ওপরে। মাটির নিচে কোনো পার্কিং নেই আমাদের। তাই পাহাড়ে ভবন নির্মাণে আমরা একটা দক্ষতা অর্জন করেছি।

দেশ রূপান্তর : পার্সিভ্যাল হিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ ফুট উঁচুতে। এত ওপরে ভবন সম্ভবত নগরীতে আর নেই। এপিক এই স্থানে কেন ভবন নির্মাণ করতে আগ্রহী হলো?

প্রকৌশলী এসএম আবু সুফিয়ান : চকবাজারের পার্সিভ্যাল হিলের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় এখানে দোতলা যে বাড়িটি ছিল, তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ভবন মালিকের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা অফারটি গ্রহণ করি। পাহাড়ে ভবন নির্মাণে পারদর্শিতার কারণেই মূলত জায়গার মালিকের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে এসেছিল। আমরাও তাদের ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম তথা দেশের সবচেয়ে উঁচু স্থানে ভবন নির্মাণ করলাম। পাহাড়ের ঢালের তিনটি ফ্লোর পার্কিং হিসেবে থাকবে। পাহাড়ের ওপরের সমতল থেকে ওপরের দিকে গড়ে তোলা হয়েছে ১২-তলার আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট।

দেশ রূপান্তর : এই ভবন নির্মাণে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

প্রকৌশলী এসএম আবু সুফিয়ান : একে তো পাহাড়ি এলাকা, তার ওপর সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, প্রতিবেশী ও অন্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাধা আসছিল। সবপক্ষকে আমাদের কাজ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত করতে হয়েছে। নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে পাহাড় না কাটার বিষয়টি।

দেশ রূপান্তর : পাহাড় না কেটে ভবন কীভাবে নির্মাণ করলেন?

প্রকৌশলী এসএম আবু সুফিয়ান : প্রথমেই বলেছি, আমরা প্রকৌশলী এবং আমাদের ৩০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাহাড় না কেটেই আমরা পাইলিংয়ের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ করেছি। পাহাড়ের ঢাল মেইনটেইন করে স্থাপত্য ও প্রকৌশলে পরিবর্তন এনেছি। আর সবকিছুর সম্মিলনেই এই বহুতল ভবন।