অ্যানথ্রাক্সের ৮০ পয়সার টিকা ২০ টাকায় বিক্রি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে গবাদিপশুর তড়কা রোগ (অ্যানথ্রাক্স)। এ পর্যন্ত শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে বহু গবাদিপশু। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত ৮০ পয়সার টিকা খামারিদের কাছ থেকে ২০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বাধ্য করে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় খামারিরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, সরকারি নিধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত নিয়ে কয়েক লাখ টাকা লুটে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, সুন্দরগঞ্জে প্রায় আড়াই লাখ গবাদিপশু রয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে প্রায় ২ লাখ পশুকে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৬ হাজার ৪০০ ভ্যাকসিন এসেছে। এর মধ্যে ২২ হাজার পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ হাজার দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নতুন করে আরও ৫০ হাজার ভ্যাকসিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, অধিকাংশ পশু এখনও ভ্যাকসিনের বাইরে। কোনো প্রচার-প্রচারণা না থাকায় সচেতনতাও কম।

বামনডাঙ্গার দিনমজুর আজহার মিয়া বলেন, আমার ৪টা গরু, ২টা ছাগল। অফিসের লোক এসে টিকা দিতে বলে ২০ টাকা করে নেয়। বলল অফিসে গেলে আরও বেশি দিতে হবে। বাধ্য হয়ে ২০ টাকা করে দিয়েছি।

মনমথ গ্রামের ভ্যানচালক মজিবর রহমান বলেন, ওরা মোটরসাইকেল নিয়ে এসে বলল ভ্যাকসিন নিতে হবে। বললাম ১০ টাকা করে নেন, তারা রাজি হলোন না। পরে ২০ টাকা দিয়ে দিতে বাধ্য হইছি।

সোনারায় ইউনিয়নের খামারি রফিক মিয়া বলেন, গরুর নতুন রোগ ছড়াচ্ছে শুনেছি। আমার বাড়িতে ৫টা গরু আছে, কিন্তু কোথায় টিকা পাওয়া যাবে কিছুই জানি না।

ভ্যাকসিনেটর চন্দন কুমার রায় জানান, ২০ টাকা করে নিচ্ছি। যদিও সরকারি দাম ৮০ পয়সা, তবে অফিসের আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতেই এই টাকা নেওয়া হয়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কুমার দে বলেন, আমরা ১০ টাকা করে নিতে বলেছি, এর বেশি কেউ নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অক্ষম হলেও তাকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতি ভ্যাকসিন ৮০ পয়সা ঠিক আছে। তবে প্রাণিসম্পদ অফিস বলেছে ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা তাদের সিদ্ধান্ত, আমরা এখান থেকে কিছু বলার নেই।