জুলাই শহীদ শিহাব হত্যা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন

ফেনীতে জুলাই অন্দোলনে শহীদ শিহাব হত্যা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন। বাদী জানেন না। বাদীপক্ষের আইনজীবীও জানেন না। বিগত সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে জেলা পর্যায়ে কমিটি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ কমিটি যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারযোগ্য মামলাগুলো কমিটির সদস্য সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটরের স্বাক্ষরে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা বলা হয়।

ফেনী থেকে এমন ৫৮০টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। এর মধ্যে রহস্যজনকভাবে তালিকায় দেওয়া হয় জুলাই শহীদ শিহাবের মামলাটিও। শহীদ ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলাটি প্রত্যাহারে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মেজবাহ উদ্দিন খান সুপারিশ করেননি বলে জানান। তিনি বলেন, এটি জালিয়াতির মাধ্যমে হতে পারে। রবিবার ফেনী জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন।

পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান বলেন, একটি জাতীয় দৈনিক জুলাই শহীদ ওয়াকিল হত্যা মামলাটি প্রত্যাহারে মন্ত্রণালয়ে পিপি সুপারিশ করেছেন বলা হয়েছে, যা সত্য নয়। ওয়াকিল হত্যা মামলার নম্বরের সঙ্গে সুপারিশ হওয়া মামলাগুলোর মিল নেই। এই মামলা প্রত্যাহার করতে কোনো সুপারিশ করিনি। আইন মন্ত্রণালয়ের আবেদনে মামলাটি প্রত্যাহারের যদি কোনো সুপারিশ করা হয়ে থাকে, সেটি তার সই করা নয়। মামলা প্রত্যাহারের তালিকায় ওয়াকিল হত্যা মামলাটি যদি থেকে থাকে, তাহলে কোনো পক্ষ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে করতে পারে। এর সঙ্গে আমি জড়িত নন।

মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশের আসামিদের মধ্যে আলোচিত কারও নাম না লিখে আবদুল্লাহ আল মহসিন ও আবুল কালাম নামের অন্য দুজন আসামির নাম লেখা হয়েছে সাংবাদিকদের তিনি জানান। আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পিপির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। পিপি তার লিখিত বক্তব্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পিপি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দায়ের করা বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে জেলা থেকে ৫৮০টি মামলার সুপারিশ করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ইতিমধ্যে ২২৩টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফেনী জজকোর্টের আইনজীবী পার্থ পাল চৌধুরী, হুমায়ুন কবির বাদল, রেজাউল করিম তুহিন ভূঞা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ শিহাবের মামলার আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞার বলেন, বাদী শত প্রতিকূলতার মাঝেও পুত্র হত্যার বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আমার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এ ছাড়া প্রশাসন ও আদালত সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন জুলাই অভ্যুত্থানের মামলার বিচার নিশ্চিতে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিহাব যেদিন মারা যায় সেদিন শেষ বক্তা ছিলাম আমি। আমার বক্তব্য দেওয়ার মাঝেই ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। সেখানে ৭ জন নিহত হয়। এই ৭টি মামলার দায়িত্বই আমি নিয়েছি। বিনা-পয়সায় এ মামলাগুলো আমি চালাবো প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। যেখানে মামলার বিচারের জন্য শহীদ পরিবারগুলো গুমরে কাঁদছে সেখানে শিহাবের মামলা প্রত্যাহারের আবেদন যদি হয়ে থাকে তা খুবই রহস্যজনক।

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর গ্রামে শহীদ শিহাবের বাড়ি। এ ব্যাপারে শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার কিছুই জানেন না। শিহাবের বাবা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ থাকেন সৌদি আরব। মা মাহফুজা আক্তার ছেলে শিহাব হত্যা মামলার বাদী।

তিনি বলেন, শত চেষ্টা করেও ছেলেকে হাসিনা সরকার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখা যায়নি। ৪ আগস্ট চার থেকে পাঁচবার বাড়ি থেকে মহিপাল আন্দোলনে অংশ নেন শিহাব। সবশেষ মাকে বলে আসেন হাসিনার পতন ঘটিয়েই বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু লাম হয়ে ফিরলেন শিহাব। মাহফুজা বেগম বলেন, সন্তান শহীদের মর্যাদা পেয়েছে। এখন আমার দাবি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি- মৃত্যুদণ্ড।

ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলাটি চার্জশিটের জন্য এগুচ্ছে। শিগগিরই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের বিষয়টি আমি জানি না।