সামনে চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা: জাহাজ থেকে শহিদুল আলমের বার্তা

ফিলিস্তিনের গাজার উদ্দেশে রওনা দেওয়া বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম বলেছেন, গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজ ‘কনসাইন্স’-এ এখন একের পর এক চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা আর মানবিক দায়িত্বের ভারের মধ্যে অতিক্রম করছি। 

আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে ‘কনসাইন্স’ থেকে গাজার চিকিৎসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন শহিদুল আলমরা। সেসময় এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হন তিনি। বেলজিয়ামের চিকিৎসক ড. হান্নে বোসেলার্স নিজের সহকর্মীদের মুখে আল-আওদা হাসপাতালের ওপর ইসরায়েলি সন্ত্রাসী বাহিনীর বর্বরতম হামলার বিবরণ শুনে কেঁদে ফেলেন। সেই দৃশ্য সবাইকে নাড়িয়ে দেয়।

শহিদুল আলম বলেন, এই ঘটনাই স্মরণ করিয়ে দেয় কেন তাদের এই যাত্রা এত গুরুত্বপূর্ণ। এটা শুধু এক নৌযাত্রা নয়। এটা মানবতার যাত্রা। ‘কনসাইন্স’ আসলে পুরোনো একটি জাহাজ, ১৯৭২ সালে তৈরি যেখানে যাত্রীদের জন্য কোনো কেবিন নেই। সবাই ঘুমায় মেঝেতে। সব কাজ—রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা পাহারা সবই তাদের নিজেদের করতে হয়। কঠিন এই পরিস্থিতিতেও শহিদুল আলমের নেতৃত্বে মিডিয়া টিম ছবি তুলছে, ভিডিও ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছে। যাতে বিশ্বের মানুষ এই অভিযানের খবর জানতে পারে।

শহিদুল আলম জানান, এই মিশন আমার বা আমাদের জন্য নয় এটা ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য। সহানুভূতির সময় শেষ। এখন দরকার পদক্ষেপ। রাস্তায় নামুন, প্রতিবাদ করুন, বয়কট করুন। আমাদের নীরবতা আর চলবে না।

তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেন, এটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অন্যায়। আর আমরা চুপ করে থাকলে সেটি আমাদেরও দায় হবে। গাজার উদ্দেশে সমুদ্রে থাকা ‘কনসাইন্স’ থেকে শহিদুল আলমের বার্তা—আমরা সবাই এখন ফিলিস্তিনি।