দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের কূটনীতি ও আঞ্চলিক নীতির দায়িত্ব পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক পল কাপুর। মার্কিন সিনেট তাঁকে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। তিনি ডোনাল্ড লুর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
এর আগে এই দায়িত্বে ছিলেন ডোনাল্ড লু। তিনি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক তদারক করতেন। তাঁর বিদায়ের পর গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাপুরের নাম প্রস্তাব করেন।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে কাপুরের নাম চূড়ান্ত হয়। কমিটির অনুমোদনসূচী তালিকায় তিনি ছিলেন ১০৭ জন মনোনীত প্রার্থীর একজন।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের কূটনৈতিক দায়িত্বে এর আগে ছিলেন নিশা বিসওয়াল। তিনিও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। এবার পল কাপুর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দিলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, পরমাণু নীতি ও ইসলামি জঙ্গিবাদ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে পল কাপুরের। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর স্নাতকোত্তর স্কুলে অধ্যাপনা করেছেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হুভার ইনস্টিটিউটে অতিথি অধ্যাপক হিসেবেও কাজ করেছেন।
ট্রাম্প সরকারের প্রথম মেয়াদে কাপুর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতি পরিকল্পনা শাখায় দক্ষিণ এশিয়া সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু ভারসাম্য নিয়ে তাঁর একাধিক আলোচিত বই রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-Jihad as Grand Strategy: Islamist Militancy, National Security, and the Pakistani State এবং Dangerous Deterrent: Nuclear Weapons Proliferation and Conflict in South Asia। এছাড়া সহলেখক হিসেবে লিখেছেন India, Pakistan, and the Bomb: Debating Nuclear Stability in South Asia।
বিশ্লেষকদের মতে, পল কাপুরের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।