আফগানদের কাছে পর পর দুই ম্যাচ হারলেন ক্যাপটেন মিরাজ

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২২১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও রহমত শাহ এর ফিফটিতে ১৭ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য ছোঁয় আফগানিস্তান। ৪০ রান ও ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে গত বছর শারজায় আফগানদের কাছে ম্যাচ হেরেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। হারলেন পূর্ণ দায়িত্বে আসার পর প্রথম ম্যাচও। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ একই মাঠে শনিবার মুখোমুখি হবে দুই দেশ।

রান তাড়ায় ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ৫৮ রানের মধ্যেই ২ উইকেট হারায় আফগানরা। এর পর ৭৮ রানের জুটি গড়েন গুরবাজ ও রহমত। ৭ বলের ব্যবধানে দুজনেই আউট হন ঠিক ৫০ রান করে। এর পর আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদিকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়েন আজমত। ৪৪ বলে ৪০ রানে তিনি থামলেও ততক্ষণে জয় থেকে মাত্র ২৭ রান দূরে আফগানিস্তান। এই রানটুকু নিতে আর তেমন বেগ পেতে হয়নি। শেষ পর্যন্ত শাহিদি ৩৩ ও মোহাম্মদ নবি ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের তানজিম সাকিব তিনটি এবং মিরাজ ও তানভীর ইসলাম একটি করে উইকেট পান।

বাংলাদেশের ইনিংসে অভিষেক ওয়ানডেতেই ইনিংস উদ্বোধনে নামেন সাইফ হাসান। কিন্তু বুঝে ওঠার আগেই তানজিদ তামিম ও নাজমুল শান্ত গেলেন ফিরে। প্রতিরোধের চেষ্টায় ২৬ রান করলেও ইনিংসটা খুব রঙিন হলো না সাইফের। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার নেই ৫৩ রানে। তাওহীদ হৃদয় ও মিরাজের ব্যাট সামাল দেয় সেই বিপদ। ১৩৮ বলে গড়েন শতরানের জুটি। দুজনেই পান ফিফটির দেখা। জুটিতে আর এক রান যোগ হতেই তবে মিরাজের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কপাল পোড়ে হৃদয়ের। একটু পর ফেরেন মিরাজও। অধিনায়ক ৬০ ও হৃদয় ৫৬ রান করেন।

এর পর জাকের আলী ও নুরুল হাসান সোহানের কেউই ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেননি। শুরুর মতো শেষের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ২২১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। আফগানদের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন রশিদ খান ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই, এএম গজনফর নেন দু্ই উইকেট। এই ম্যাচেই মিরাজকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে দুইশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন রশিদ। আর প্রথম আফগান ব্যাটার হিসেবে ৪০০০ ওয়ানডে রানের মাইলফলক ছোঁন রহমত শাহ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৮.৫ ওভারে ২২১ (সাইফ ২৬, তানজিম ১০, শান্ত ২, হৃদয় ৫৬, মিরাজ ৬০, জাকের ১০, সোহান ৭, তানজিম ১৭, হাসান ৫, তাসকিন ৪*, তানভির ১১; বাশির ৪-০-২৫-০, ওমারজাই ৯-০-৪০-৩, গাজানফার ৯.১-১-৫৫-২, খারোটে ১০-১-৩২-১, রাশিদ ১০-০-৩৮-৩, নাবি ৬-০-২৭-০)

বাংলাদেশ ভ্রমণ

আফগানিস্তান: ৪৭.১ ওভারে ২২৬/৫ (গুরবাজ ৫০, ইব্রাহিম ২৩, আটাল ৫, রেহমাত ৫০, শাহিদি ৩৩*, ওমারজাই ৪০, নাবি ১১*; তাসকিন ৮-০-৫০-০, হাসান ৮-০-৪০-০, তানভির ১০-০-৪২-১, তানজিম ৭-১-৩১-৩, মিরাজ ১০-১-৩২-১, সাইফ ৩.১-০-২৪-০, শান্ত ১-০-৪-০)।

ফল: আফগানিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে আফগানিস্তান ১-০তে এগিয়ে।

ম্যান অব দা ম্যাচ: আজমাতউল্লাহ ওমারজাই।