জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টি এলিমিনেটরে হলো লো-স্কোরিং তবে উত্তেজনায় ঠাসা একটি ম্যাচ। যেখানে ঢাকাকে ১ উইকেটে হারিয়ে আসরে টিকে রয়েছে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রংপুর বিভাগ। এই ঢাকার কাছেই প্রথম পর্বের ম্যাচে ৭১ রানে হেরেছিল রংপুর। বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে ১২৩ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকা। জবাবে রোমাঞ্চকর রান তাড়ায় ১ বল হাতে রেখে সেই লক্ষ্য ছোঁয় রংপুর। বৃষ্টির বাধায় আক্রান্ত প্রথম কোয়ালিফায়ারে ডিএলএস পদ্ধতিতে চট্টগ্রামকে হারিয়ে ৪ উইকেটে ফাইনালে উঠেছে খুলনা।
এ দিনটা ছিল বোলারদের শাসনের। আগে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকার ব্যাটাররা কাবু হন রংপুরের স্পিনবিষে। নাসুম আহমেদ, আবু হাশিম, নাসির হোসেন প্রত্যেকেই শিকার করেন জোড়া উইকেট। উইকেটে থিতু হতে পারেননি কেউই। তবে ব্যতিক্রম মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত খেলেন ৩৬ বলে ২ চার ৬ ছক্কায় ৬১ রানের ইনিংস। ঢাকার স্পিনাররাও কম যাননি। মাহফুজুর রাব্বী ৩টি এবং নাজমুল অপু ও রায়ান রাফসান ২টি করে শিকার ধরেন। ৫২ রান তুলতেই রংপুরের ৬ ব্যাটসম্যান ফিরে যান সাজঘরে। ওই অবস্থায় দাঁড়িয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক আকবর আলী। খেলেন ২৭ বলে ৪টি চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ রানের ইনিংস। নাসুমের সঙ্গে গড়েন ৬২ রানের ম্যাচ জেতানো জুটি। এক বল হতে রেখে পাওয়া ওই রোমাঞ্চকর জয়েই আসরে টিকে থাকে রংপুর। ম্যাচসেরা হন আকবর। বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় ঢাকার। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে শুক্রবার বিকেলে রংপুর মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম বিভাগের।
কেননা প্রথম কোয়ালিফায়ারে ডিএলএস পদ্ধতিতে চট্টগ্রামকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে উঠেছে খুলনা বিভাগ। আর নিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেই নজর কেড়েছেন খুলনার অভিষেক দাস অরণ্য। ৫৯ রানের জুটিতে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন ইরফান-ইয়াসির জুটি। ইরফান শুক্কুর ৩৩ বলে ৩৯ রানে ফিরলেও অধিনায়ক ইয়াসির আলী চৌধুরী অপরাজিত থেকে যান ৩৭ বলে ৪৫ রান করে। তাতে ৬ উইকেটে ১৪৮ রানের পুঁজি পায় চট্টগ্রাম।
জবাবে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলের পর হানা দেয় বৃষ্টি। তখন রান ১ উইকেটে ৩। খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ঘণ্টাখানেক। এরপর খুলনার সামনে পরিবর্তিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ৯ ওভারে ৭৮ রানের। কিন্তু পরের ১৮ বলের ভেতর ২৭ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে খুলনা। ৩০ রানে নেই ৬ উইকেট। ষষ্ঠ ওভারের শেষ দুই বলে নাহিদুলের ছক্কা-চারে আরেকবার খেলায় ফেরে তারা। হাসান মুরাদের করা পরের দুই ওভারে ২৮ রান যোগ করেন নাহিদুল-অভিষেক জুটি। শেষ ওভারে ৭ রানের সমীকরণে প্রথম বল ওয়াইড করার পর মেহেদী রানার পরের বলে চার মেরে শুরু করেন অভিষেক। আর
তৃতীয় বলে আরেকটি চারে খুলনাকে ফাইনালে তোলেন।
৩ চার, ২ ছক্কায় ১১ বলে অপরাজিত ২৭ রানের ইনিংস খেলেন অভিষেক। ঘরোয়া ক্রিকেটে অপরিচিত মুখ তিনি। আকবরের নেতৃত্বে বিশ্বকাপজয়ী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার তিনি। পচেফস্ট্রুমের ওই ফাইনালে ভারতকে হারানোর ম্যাচে ৪০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন অভিষেক। এ পর্যন্ত লিস্ট এ ম্যাচ খেলেছেন একটি, সেটিও ২০২০ সালে। ওই ম্যাচের ৫ বছর পর এবারের এনসিএলেই গত মঙ্গলবার স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় তার। ২ চার, ১ ছক্কায় ৯ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন নাহিদুল। দুজনের ২০ বলে ৫১ রানের ঝড়ো জুটিতে কর্তিত ওভারের ম্যাচ জিতে ফাইনাল নিশ্চিত হয় খুলনার।