পরিযায়ী পাখি কীভাবে পথ চেনে?
হাজার হাজার মাইল পথ পেরিয়ে সাইবেরিয়া থেকে এদেশে হাজির হয় পরিযায়ী পাখিরা। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কী করে হাজির হয় তারা? কেমন করে চেনে পথ? বর্ষা ও শরৎ পেরিয়ে হাজির হয় হেমন্ত। শীত আসার আগে খুব স্বল্প সময়ের জন্য সে আসে। সাইবেরিয়া বা রাশিয়া থেকে আসে ওয়েডার্স ও ডাক। ইউরোপ থেকে আসে ইউরোপিয়ান ফ্লাইক্যাচার, ব্রাউন- ব্রেস্টেড ফ্লাইক্যাচার, বার্ন সোয়ালের মতো আরও কত পাখি! খাবার অভাব কিংবা প্রজনন সমস্যার মতো নানা কারণে তাদের সফর। তবে আসল কারণ, সম্ভবত উষ্ণতা। তাই এ সময়ে আসা। পৃথিবীর প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে উনিশ শতাংশ পরিযায়ী। কীভাবে যে এরা একেবারে নির্ভুলভাবে দিক চিনতে পারে, তা আজও জানেন না বিজ্ঞানীরা। মূলত সূর্যের সঙ্গে দিগন্ত বরাবর রেখা ধরে দিকচিহ্ন তৈরি করে পরিযায়ী পাখি। একইভাবে রাতের আকাশে তারাদের অবস্থানও দিব্যি চেনে পাখিরা। তাদের গুরুত্বপূর্ণ ‘টুল’ হলো পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র। মনে করা হয়, পাখিরা তাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে কাজে লাগিয়ে, চিনে নেয় গতিপথ। কোনো বিজ্ঞানী মনে করেন, পাখিদের চোখের ‘কোয়ান্টাম এফেক্টস’ সাহায্য করে চৌম্বক ক্ষেত্রের রেখা চিনে নিতে। এ ছাড়া পাখিরা মানুষের মতোই ‘ল্যান্ডমার্ক’ তৈরি করে মনে মনে। ফেরার সময় সেই সব পথচিহ্ন তাদের বুঝিয়ে দেয়, ঠিক পথে চলছে তারা। পাশাপাশি পাখিদের ভরসার জায়গা হলো গন্ধ। এই গন্ধের স্মৃতিকে কাজে লাগিয়ে পথ চেনে পাখিরা। সবমিলিয়ে এ প্রক্রিয়া মানুষকে বিস্মিত করে। এভাবে পথ চিনে প্রতি বছর একই পথে যাওয়া-আসার সময় খাবার-দাবার, ওসব এলাকার উষ্ণতা সবই মাপতে পারে তারা। পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও, ওরা আসে। মানুষকে বুঝিয়ে দেয়, অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা যত কঠিনই হোক, তা অসম্ভব নয়।