চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি অভয়ারণ্যের ভেতর মিরিখিল কুলপাগলী এলাকায় পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চুনতি অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষিত বন। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ মাঝেমধ্যে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করলেও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা অভয়ারণ্য এলাকার ছড়া থেকে দিনভর বালু উত্তোলন করছেন প্রতিনিয়ত।
সম্প্রতি অভয়ারণ্যের ভেতর মিরিখীল কুলপাগলী এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, চুনতি অভয়ারণ্যের ভেতর বয়ে গেছে পাগলীর ছড়া খাল। এ খালের দুপাশে রাখা হয়েছে কয়েক হাজার ঘনফুট বালু। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা দিনে বালু তুলে সন্ধ্যার পর এ বালু বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় জুনায়েদ, মো. মোজাম্মেল, মো. বাবুল, মো. নাছির, মো. আকতার ও মো. আরমানের নেতৃত্বে কুলপাগলী এলাকায় পাগলীর ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাফর আলম বলেন, ‘এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন ও বনবিভাগকে জানিয়েও কোনো সমাধান হয়নি। এই বালু উত্তোলন বনের যেমন ক্ষতি করছে, তেমনি আমাদের গ্রামীণ রাস্তাঘাটেরও ক্ষতি হচ্ছে।’
চুনতি অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী বাহার উদ্দিন বলেন, ‘অভয়ারণ্যের ভেতর কিছু এলাকায় ছড়া থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে। এ ব্যাপারে ছয়জনকে আসামি করে গত জুলাই মাসে মামলা করি। মামলার পর আসামিরা আমাকে নানাভাবে হুমকি দেন, যাতে আমি মামলা প্রত্যাহার করি। তারা হলেন আকতার হোসেন, জুনায়েদ, ইলিয়াছ, সাকিব, আরমান, হামিদ ও আরিফ। এ ছাড়া ৩০০ ঘনফুট বালু জব্দ করি। মামলা দেওয়ার পরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।’
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন রুবা বলেন, ‘চুনতি অভয়ারণ্যের ভেতর এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নষ্ট হবে বনের জীববৈচিত্র্য। স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগের উচিত অচিরেই এগুলো বন্ধ করে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।’
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অভয়ারণ্যের ভেতর পাগলীর ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে এটি বন্ধে বনবিভাগের সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’