বোলারদের দারুণ সাফল্য আফগানিস্তানকে ১৯১ রানে আটকে দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা পায়ে ঠেলল সবকিছু। সিরিজে ফেরার ম্যাচে মাত্র ১০৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে ম্যাচ হারল। সিরিজও হারল।
এ নিয়ে টানা তিন সিরিজ হারে বাংলাদেশের জন্য ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথ কঠিন হয়ে গেল। ২০২৪ সালের মার্চে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি। দেশে আফগানিস্তানের বিপক্ষে, বিদেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং সবশেষ আফগানিস্তানের হোম সিরিজে আবুধাবিতে টানা দুই ওয়ানডে হেরে বাংলাদেশ এখন সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলতে না পারার ঝুঁকিতে। অধিনায়ক হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি সিরিজে এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পেয়েছেন মাত্র এক ম্যাচে।
টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে আফগানিস্তান ৪৪.৫ ওভারে অলআউট হয় ১৯০ রানে। একপ্রান্তে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইব্রাহিম জাদরান করেন ১৪০ বলে ৯৫ রান, তবে অন্যপ্রান্তে চলে আসা যাওয়ার খেলা। মিডল অর্ডারে টানা চার ব্যাটসম্যান এক অঙ্কের রানে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। শেষ দিকে মোহাম্মদ নবীর ২২ ও আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফরের ২২ রানে কিছুটা সম্মানজনক সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারে আফগানরা, অবশ্য দিন শেষে এই সংগ্রহটাই ছিল যথেষ্ট। মিরাজ তিনটি, তানজিম সাকিব ও রিশাদ হোসেন নেন দুটি করে উইকেট।
১৯১ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান তামিম আউট হয়ে যান শূন্য রানে। পঞ্চম ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত হয়ে যান রানআউট। এক ওভার পর ছক্কা মারার পরের বলেই সাইফ হাসানও ক্যাচ দেন ২২ রান করে। বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের ব্যাটিং এই সময়ের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাটিংয়ের অনন্য উদাহরণ। স্পিন খেলতে না পারার অক্ষমতা, অহেতুক সুইপ খেলার প্রবণতা দুটোই স্পষ্ট। মিডল অর্ডারে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর মতো ভরসা করার ব্যাটসম্যান নেই বরং কথিত ফিনিশারের ছড়াছড়ি। জাকের আলি অনিক, নুরুল হাসান সোহানদের সামর্থ্য নেই ইনিংস বড় করার। খানিকটা এলোপাতাড়ি ব্যাট চালিয়ে কিছু রান করে বিদায় নেওয়াটাই তাদের বৈশিষ্ট্য। হয়েছেও তাই। রশিদ খানের ঘূর্ণির সামনে খাবি খেয়েছেন সবাই। ৮.৩ ওভারে ২ মেডেনসহ ১৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন রশিদ। দুজন বোল্ড, দুজন লেগ বিফোর উইকেট আর একজন স্টাম্পড। রশিদের বলে কোনো ব্যাটসম্যান মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন, এই দাবি করতেই পারেন না। অবশ্য ৩০০ বলে ১৯১ রান করতে খুব বেশি চার ছয় পারার প্রয়োজনও হয় না। স্ট্রাইক রোটেট করে এক-দুই করে নিয়েও এই ম্যাচটা জেতা সম্ভব, তবে সেসব করতে বয়েই গেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। টি-টোয়েন্টি ম্যাচের কিছু বেশি সময়, অর্থাৎ ২৮ ওভার ৩ বলে ১০৯ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। ম্যাচের তখনো ১২৯টি বৈধ ডেলিভারি বাকি।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, ‘আজ খুব খারাপ ব্যাটিং করেছি। আমি ছেলেদের বলেছিলাম, ওপরের দিকে পার্টনারশিপ গড়া দরকার, কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। আমরা পার্টনারশিপ শুরু করি, কিন্তু দায়িত্ব নিতে পারি না এখানেই সমস্যা। আমাদের ব্যাটাররা যথেষ্ট দায়িত্ব নিচ্ছে না। এই মুহূর্তে আমরা খুব হতাশ, তবে এখনো একটি ম্যাচ বাকি আছে। এরপর আরেকটি সিরিজ আছে, আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে আরও শক্তভাবে ফিরে আসা যায়। আমাদের ব্যাটিংয়ে উন্নতি আনতে হবে; যদি ওয়ানডেতে রান না করি, তাহলে টিকে থাকা কঠিন।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান : ৪৪.৫ ওভারে ১৯০ (গুরবাজ ১১, ইব্রাহিম ৯৫, আটাল ৮, রহমত ৯ আহত অবসর, শাহিদি ৪, ওমারজাই ০, নাবি ২২, খারোটে ১৩, রশিদ ১, গজনফর ২২, বশির ০*; তানজিম ৭-০-৩৫-২, মোস্তাফিজ ৮-০-৩৮-০, মিরাজ ১০-১-৪২-৩, তানভির ১০-০-৩৫-১, রিশাদ ৯.৫-০-৩৭-২)।
বাংলাদেশ : ২৮.৩ ওভারে ১০৯ (তানজিদ ০, সাইফ ২২, শান্ত ৭, হৃদয় ২৪, মিরাজ ৪, জাকের ১৮, সোহান ১৫, তানজিম ০, রিশাদ ৫, তানভির ০, মোস্তাফিজ ৫*;
ওমারজাই ৭-১-২৭-৩, বশির ২-০-২২-০, গজনফর ৪-০-২১-০, রশিদ ৮.৩-২-১৭-৫, খারোটে ৭-১-২২-১)
ফল : আফগানিস্তান ৮১ রানে জয়ী।
সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজে
আফগানিস্তান ২-০-তে এগিয়ে।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ইব্রাহিম জাদরান।