দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে ভুয়া জামিননামা দাখিল করে এক মাদক মামলার আসামিকে মুক্ত করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত এক কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত কারারক্ষী ও আসামির বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত মামলায় ২ জনকে ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সামিউল ইসলাম কারারক্ষী ও আসামির ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তারা হলেন- দিনাজপুর জেলা কারাগারে কর্মরত কারারক্ষী মো. নিজামুল হক (২৮) ও জেলার পার্বতীপুর থানার আমরিক্যান ক্যাম্পের আনোয়ার হোসেনের পুত্র মো. আরিফুল ইসলাম (২৭)।
দিনাজপুর সদর সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, একটি মাদক মামলায় সেপ্টেম্বরে আসামি মো. আরিফুল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট ৩ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ওই মামলায় আরিফুলের পক্ষে তার নিয়োজিত আইনজীবী দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুর-এ আলম সিদ্দিকীর আদালতে আপিল মামলা দায়ের করেন। ওই আপিল মামলায় আগামী ৩০ অক্টোবর আসামি আরিফুলের জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য্য রয়েছে। কিন্তু তার আগেই জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সীল স্বাক্ষর জাল করে আসামি আরিফুলকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি চক্র দিনাজপুর জেল হাজতে থেকে তাকে মুক্তি করে দেন। বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ওই ভুয়া জামিন নামার বিষয় অবগত করানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পার্বতীপুর থানা পুলিশ আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মতিয়ার রহমান জানান, কারাগারে ভুয়া জামিননামা দাখিল করে আসামিকে মুক্ত করার ঘটনায় কারারক্ষী নিজামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দিনাজপুর সদর সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম জানান, কারারক্ষীসহ ২জনকে দিনাজপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সামিউল ইসলামের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে বিচারক ২জনকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।