এক দশক আগে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন যিনি, নিউজিল্যান্ডের সেই ক্রিকেটার লু ভিনসেন্ট এবার ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে বক্তব্য দেবেন। তার নিষিদ্ধ অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষার হাতিয়ার বানাবেন।
আগামী মঙ্গলবার মেলবোর্নে ভিক্টোরিয়া পুলিশের আয়োজিত এক সম্মেলনে খেলাধুলায় সততা ও দুর্নীতিবিরোধী নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। তার আগে এক সাক্ষাৎকারে ভিনসেন্ট বলেছেন, “এটা শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, বরং যেকোনো খেলা—যতক্ষণ সেটা লাইভস্ট্রিম হয়, ততক্ষণই ফিক্সিংয়ের ঝুঁকি থাকে।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “নিউজিল্যান্ডে তৃতীয় শ্রেণির ফুটবল ম্যাচেও দর্শক থাকে মাত্র দশজন। কিন্তু ইন্টারনেটে লাইভ দেখানো হয়, ফলে সেটিও বাজির আওতায় পড়ে। তাই শুধু পেশাদার খেলাই নয়, অপেশাদার খেলাগুলোকেও রক্ষা করতে হবে দুর্নীতি থেকে।”
ভিনসেন্টের মতে, খেলোয়াড়দের শিক্ষা দেওয়া জরুরি হলেও সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সতর্কবার্তা, “আমার একটা শক্তিশালী বার্তা আছে আগামী প্রজন্মের জন্য—তারা যেন এই অন্ধকার জগতের ফাঁদে না পড়ে, যেটায় আমি নিজে ধ্বংস হয়েছি। আমি নিজের জীবন, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যত—সবকিছু হারিয়েছি। এখন অন্তত শিক্ষার মাধ্যমে কিছুটা ফেরত দিতে চাই।”
২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের চুক্তি হারানোর পর থেকেই স্পট-ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ভিনসেন্ট। ২০১৩ সালের বিপিএলে খুলনার হয়ে খেলেছেন। ২৩টি টেস্ট ও ১০০টির বেশি ওয়ানডে খেলা এই ব্যাটার নিজের আত্মসমালোচনায় বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল এটা ‘আসল ক্রিকেট’ নয়, তাই ভুল কিছু করছি না। তখন লোভ আর গ্রহণযোগ্যতার খোঁজ—দুটোই আমাকে টেনে নিয়েছিল।”
টি২০ ম্যাচে কিভাবে তিনি ফিক্সিং করতেন, সেটিরও সহজ উদাহরণ দিয়েছেন—“আমাকে বলা হতো ২০ বলে ১০ থেকে ১৫ রান করে আউট হয়ে যেতে।” তিনি আরও জানান, ফিক্সিংয়ের সময় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন, “এটা ছিল গলায় ফাঁসের মতো—যতক্ষণ না আমি সব স্বীকার করে অবসর নিয়েছি।”
দুই বছর আগে আংশিকভাবে তার আজীবন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, ফলে এখন তিনি স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিতে পারেন। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন ভিনসেন্ট। বলেন, “আমি জীবনটা আবার শুরু করেছি, প্রিয় খেলায় ক্যারিয়ার হারিয়েছি। কিন্তু নিজের ভুল স্বীকার করে গল্পটা শিক্ষার বার্তায় পরিণত করতে পেরেছি—এটাই এখন মনে হয়, কিছুটা হলেও মূল্যবান।”