বাদল রায় একজন বিমা কর্মকর্তা। তার অসুস্থ মাকে হবিগঞ্জ হাসপাতালের এম্বুলেন্সে ঢাকায় নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এম্বুলেন্স না পাওযায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়ায় বেসরকারি এম্বুলেন্সে নিতে হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫জন রোগী বেসরকারি এম্বুলেন্সে ঢাকা বা সিলেট যাচ্ছেন উন্নত চিকিৎসার জন্য। অথচ হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ২টি এম্বুলেন্স থাকা সত্বেও বছরে যে টাকা আয় করে সে তুলনায় মেরামত কাজে ব্যয় হচ্ছে বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় ২০০৯ ও ২০১৭ সালে দুটি এম্বুলেন্স বরাদ্দ পায় হবিগঞ্জ হাসপাতাল। গত ৫ বছরের আয় ব্যয় অনুসন্ধান করে দেশ রূপান্তর। এতে দেখা যায় ২০২০-২১ অর্থ বছর এম্বুলেন্স দুটি আয় করেছে ৫ লাখ ৯৭ হাজার, ২১- ২২ অর্থ বছরে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৭০, ২২-২৩ অর্থ বছরে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬০ টাকা, ২৩-২৪ অর্থ বছরে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬০ টাকা, ও ২৪-২৫ অর্থ বছরে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮০ টাকা।
এদিকে গাড়ি মেরামত, টায়ার ক্রয় বাবত প্রতি বছর সরকারি বরাদ্দ ৪ লাখই ব্যয় দেখানো হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে ঢাকা ৩ হাজার ৯০০ ও সিলেট ২ হাজার ১০০ টাকা ভাড়ায় নেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুরনো এম্বুলেন্সটি প্রায় সময়ই ওয়ার্কশপে থাকে। এছাড়া চালক পুরনো এম্বুলেন্স চালাতে অনেকটা গাছাড়া ভাব আছে। তিনি আরো জানান, ট্রিপ দেওয়ার পর ভাড়া সময় মতো জমা দেন না চালকরা।
অপর এক সূত্র জানায় চালকরা কোন কোন সময় নিজেরা না গিয়ে বেসরকারি চালকদের দিয়ে এম্বুলেন্স চালান। ডিউটি দেখিয়ে তারা বাড়িতে সময় কাটান। ফলে বেসরকারি এম্বুলেন্স ভাড়া করে রোগী আনা নেওয়া করছেন স্বজনরা।
বেসরকারি এম্বুলেন্সের মালিক আব্দুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গাড়ির মডেল ভেদে ঢাকার জন্য সাড়ে ৬ থেকে সাড়ে ৭ হাজার ও সিলেটের জন্য ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ভাড়া নেওয়া হয়। এম্বুলেন্সগুলো গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা মাসে আয় করছে। সে তুলনায় সরকারি এম্বুলেন্স আয় কম হওয়ার পেছনে ভাড়া কম, অন্যদিকে এম্বুলেন্সের চাকা ঘুরুক বা ঘরুক বেতন নিশ্চিত বলেই চালকদের গাফিলতিকে দায়ী করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহ সভাপতি এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন সরকারি প্রতিটি সেবা কেন্দ্রেই কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী আছেন কাজ না করে মাস শেষে বেতন উত্তোলনে বেশি আগ্রহী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় এম্বুলেন্সের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি। এছাড়া মেরামতের নামে অর্থ নয়ছয় তো আছেই।
তিনি বলেন, এম্বুলেন্সগুলোতে জিপিআরএস কিট স্থাপন জরুরি। এতে এম্বুলেন্সের কোথায় অবস্থান করছে, কে চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সহজে যাচাই করা সম্ভব। চালকের মোবাইল নম্বরসহ হাসপাতালের কাছে এম্বুলেন্স প্রদর্শিতস্থানে রাখার দাবি জানান তিনি।
হাসপাতালের এম্বুলেন্স চালক আব্দুর রউফ বলেন, ভাড়া কম হওযায় সরকারি এম্বুলেন্সের ওপর চাপ বেশি। এছাড়া গাড়ি দুটো পুরনো হয়ে যাওয়ায় কিছুদিন পর পর মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে নিতে হয়। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যে করুণ অবস্থা তাতে রোগী নিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর।
২৫০ শয্যা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুরনো হয়ে যাওয়ায় এম্বুলেন্সগুলোর অবস্থা শোচনীয়। তারপরেও যতটুকু সম্ভব রোগি আনা নেওয়া করা হচ্ছে। আড়াই বছর আগে এখানে যোগদান করার পরেই নতুন এম্বুলেন্স বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করেছিলাম। কিন্তু এখনও নতুন এম্বুলেন্স পাইনি।