সিলেটে আবার রংপুর সেরা

রবি সন্ধ্যায় নয়নাভিরাম সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দেখা মিলল হাজারখানেক দর্শকের। এনসিএল টি-টোয়েন্টি দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল। তার ওপর কৃত্রিম আলোয় ব্যাট-বলের লড়াই। আরও কিছু দর্শক সমাগমের আশা ছিল আয়োজকদের। তবে ক্রিকেট দেখিয়েদের সেভাবে টানতে পারেননি খুলনার ব্যাটাররা। রংপুরের বোলারদের মাপা বোলিংয়ে চার-ছক্কার উৎসব হলো না খুলনার ইনিংসে। তারপরও অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের ৩২ বলে ৪৪ আর মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর ১৩ বলে ২৪ রানের ক্যামিওতে খুলনা ৮ উইকেট খুইয়ে তুলেছিল ১৩৬ রান, যা সহজেই ৮ উইকেটে টপকে গিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এ আসরের শিরোপা জিতেছে রংপুর।

উইকেটে শুরু থেকেই বল ঘুরছিল দুদিকে। তাই টসে জেতা রংপুর অধিনায়ক আকবর আলী বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন বল তুলে দেন স্পিনারদের হাতে। কাপ্তানের আস্থার প্রতিদান ঠিকঠাক দিয়েছেন নাসুম আহমেদ, নাসির হোসেন, ইকবাল হোসেন, আবু হাসিমরা। আঁটসাঁট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে উইকেটও নিয়েছেন তারা। বোলিংটা জুতসই যেমন হয়েছে, আবার তাড়াহুড়োয় উইকেট বিলিয়ে আসার দায় কম নয় খুলনার শীর্ষ সারির ব্যাটারদের।

ইনিংসের শুরুতেই খুলনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন সিলেটের লোকালবয় নাসুম। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই তিনি তুলে নেন রানের খাতা না খোলা ইমরানুজ্জামানকে। আনামুল হক বিজয় মাঠে এসেছিলেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের লক্ষ্যে। তবে দুজনের ভুল বোঝাবুঝিতে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে রান আউটের শিকার হতে হয় ১৫ বলে ১২ রান করা আনামুলকে। তার বিদায়ের পরপরই বিলাসী শট খেলতে গিয়ে দলকে বিপদে ফেলেন সৌম্য। বাঁহাতি স্পিনার আবু হাসিমকে উইকেট ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ২২ বলে মাত্র ৮ রান করা সৌম্য। ২১ রানে শুরুর তিন ব্যাটারকে হারিয়ে ধুঁকছিল খুলনা। অধিনায়ক মিঠুন চেয়েছিলেন আফিফ হোসেনকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামলাতে। একটু হাত খুলে মারছিলেন দুজনই। তবে দুই ছয়ে ১০ বলে ১৪ রানে পৌঁছানো আফিফ বোলার ইকবালকে ফিরতি ক্যাচ দিলে দুর্দশা আরও বাড়ে। আর এনামুল হক শেখ পারভেজ জীবনকে নাসুমের ক্যাচে পরিণত করলে ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারায় খুলনা। সেখান থেকে মিঠুন মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে ৪১ রানের জুটি গড়েন। মৃত্যুঞ্জয় ২ ছক্কা আর সমান চারে ১৩ বলে ২৪ রান করে আলাউদ্দিন বাবুর শিকার হন। পরের ওভারে আরেক পেসার এনামুল হক জোড়া আঘাতে ফেরান মিঠুন ও অভিষেক দাসকে। তাকে উঁচিয়ে মারতে গিয়ে লং-অফে ক্যাচ দেন ৪৪ রান করা খুলনা কাপ্তান মিঠুন। পরের বলে একইভাবে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে নাসুমের তালুবন্দি হন অভিষেক দাস। শেষ দিকে নাহিদুল ইসলাম (৭ বলে অপরাজিত ১১) ও অভিজ্ঞ জিয়াউর রহমান (৯ বলে ৯) দ্রুত রান তুলে রংপুরের সামেন ছুড়ে দেন ১৩৭ রানের লক্ষ্য।

সে লক্ষ্যে নেমে দুই অভিজ্ঞ নাসির হোসেন ও নাইম ইসলামের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে সহজেই জয় পায় রংপুর। ওপেন করতে নেমে বাঁহাতি জাহিদ জাভেদকে নিয়ে নাসির গড়েন ৬১ রানের জুটি। ২৪ বলে ২৭ রানে জীবনের শিকার হওয়ার আগে জাভেদ বিদায় নেন। চট্টগ্রামকে হারানোর ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও নাসিরের সুযোগ ছিল হাফ সেঞ্চুরি করার। তবে ৩১ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪৬ রান করে আফিফ হোসেনের বলে লং-অফে ক্যাচ দেন তিন। এরপর অবশ্য নাইম ৩২ বলে ৪০ ও অধিনায়ক আকবর ১৫ বলে ১৯ রানের ইনিংস খেলে ১৮ বল হাতে রেখে রংপুরের জয় ও শিরোপা নিশ্চিত করেন।

স্থানীয়দের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলার সুযোগ দিতে বিসিবি গত বছর থেকে আয়োজন করছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। দুবারই শিরোপা জিতে নতুন এ আসরটা নিজেদের করে নিয়েছে রংপুর।