বগুড়া সারিয়াকান্দিতে যমুনার নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে গত কয়েকদিনে উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যমুনার এই ভাঙনে আতঙ্কে রয়েছেন হাটশেরপুর ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামের ৩০০ পরিবার। এ ছাড়া ওই এলাকার ৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
এদিকে বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাটশেরপুর, নিজবলাইল, করমজাপাড়া, দিঘাপাড়া, চকরথিনাথ গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত বছর থেকেই এখানে ভাঙন অব্যহত রয়েছে। গত বছর নদী ভাঙনের শিকার বেশকিছু পরিবার বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করেছেন। এ ছাড়া গত বছরের নদী ভাঙনের ফলে এখানে একটি গুচ্ছগ্রাম নদীতে সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়েছে। এ বছরও একই এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) আগে থেকে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গতকয়েক দিনের নদী ভাঙনের শিকার হয়ে শেরপুর গ্রামের তারা প্রামাণিকের ছেলে বকুল মেম্বার, আজগর আকন্দের ছেলে ফজলু আকন্দ এবং সালামুদ্দিন তরফদারের ছেলে শাহিন মিয়াসহ প্রায় ৩০টির বেশি পরিবারের লোকজনের বসতভিটা যমুনায় বিলীন হয়েছে। তারা এখন তাদের টিনের বাড়ি-ঘর নিয়ে অন্যের জমিতে অবস্থান করছেন। এদিকে এখানে নদীভাঙনের ফলে শেরপুর গুচ্ছগ্রাম ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। যেখানে নদীভাঙনের শিকার ৩০০টির বেশি পরিবারের লোকজন গত কয়েকবছর আগে বসতি স্থাপন করেছিলেন।
এ ছাড়া এখানে এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাটশেরপুর, নিজবলাইল, করমজাপাড়া, দিঘাপাড়া, চকরথিনাথ গ্রাম যেকোনও সময়ে নদীতে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন এসব গ্রামে বসবাসরত ২০ হাজার এলাকাবাসী। এদিকে হুমকিতে রয়েছে এসব এলাকায় বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা স্কুল, মসজিদসহ নানা ধরনের সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
হাটশেরপুর ইউনিয়নের সাহাবুল ইসলাম বিপু বলেন, গত ৩ দিনের নদী ভাঙনে ৩০টির বেশি পরিবারের বসতভিটা যমুনায় বিলীন হয়েছে। তারা তাদের বাড়িঘর নিয়ে অন্যের জমিতে অবস্থান করছেন। আমার বাড়িটিও ভাঙনের শিকার হতে যাচ্ছে। এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে এ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী গুচ্ছগ্রাম যমুনায় বিলীন হবে। তাছাড়া ৫ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ এখন নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। দ্রুত এখানে নদীভাঙন মোকাবিলায় কাজ না করলে আমরা একেবারেই যমুনার জলে ভেসে যাব। আমরা নদীভাঙন মোকাবিলায় দ্রুত এখানে জরুরি কাজ চাই।
বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, সারিয়াকান্দি হাটশেরপুর গ্রামের যমুনা নদীরভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শন শেষে ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।