টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে জোঁকের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও গবাদিপশু পালকরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বাড়িঘরের আশপাশ থেকে শুরু করে কৃষিজমি, ডোবা-নালা, এমনকি জলাশয় ও স্যাঁতসেঁতে স্থানে জোঁকের ব্যাপক বিস্তার দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চলমান বর্ষাকালীন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এই উপদ্রবকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সাড়াসিয়া, মুচারিয়া পাথার, বড়চওনা, দারিপাকা, কচুয়া, কালিয়া, মৌলভীবাজার, শ্রীপুর, বটতলীসহ প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে জোঁক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু ক্ষেত নয়, বাড়ির ভেতর-বাইরেও জোঁকের উপদ্রব বেড়েছে। স্যাঁতসেঁতে জায়গা, জল রাখার পাত্র, কিংবা ঝোপঝাড়ে তাদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
চিকিৎসকরা জানান, জোঁক রক্ত শোষণের সময় এমন একধরনের লালা নিঃসরণ করে যা রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। ফলে কামড়ের পর ক্ষতস্থান থেকে দীর্ঘসময় রক্তপাত হতে পারে।
উপজেলার মুচারিয়া পাথার গ্রামের কৃষক আহাদ উল্লাহ জানান, জোঁকের উপদ্রবে ক্ষেতে খামারে কাজ করা যায় না। গরু-ছাগল মাঠে নিয়ে গেলে জোঁকে আক্রমণ করে।
পাথারপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা জোঁক আতংক নিয়ে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে আসি। রাস্তাঘাটে জোঁক আক্রমণ করে, বিদ্যালয় মাঠে জোঁকের উপদ্রব আরো বেশি থাকায় আমাদের সমাবেশ ক্লাস মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে।
আ. রহিম মিয়া নামে এক কলাচাষী জানান, জোঁকের কারণে ক্ষেতে কাজ করতে পারিনা। শ্রমিকদের টাকা দিলেও জোঁকের আক্রমণের ভয়ে তারাও কাজ করতে চান না। আমরা খুব সমস্যার মধ্যে আছি।
এদিকে জোঁক তাড়াতে অনেকেই লবণ, তামাকের গুঁড়া বা জল, ডেটল মিশ্রিত পানি ব্যবহার করছে। কেউ কেউ গামবুট বা পলিথিন দিয়ে পা মুড়িয়ে মাঠে নামছেন। তবে এসব পদ্ধতি সাময়িক উপশম দিলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
উপজেলা কৃষি অফিসার নিয়ন্তা বর্মন জানান, এবছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকায় জোঁকের উপদ্রব বেশি দেখা যাচ্ছে। আমরা কৃষক ভাইদের তাদের বাড়ির আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়া মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে কীটনাশকের সাথে লবন মিশিয়ে আপনারা এসব জোঁক দমন করতে পারবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মো. সাইদুর রহমান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জোঁকের উপদ্রব বেশি। উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে খুব শীঘ্রই জোঁক নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি, ওষুধ সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা একসাথে কাজ করে দ্রুত জোঁক নিধন ও গবাদিপশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করব।