রেমিট্যান্স না আসলে সরকার টিকে থাকা কঠিন হত: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় পরিস্থিতি একেবারেই লণ্ডভণ্ড ছিল।  যদি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স না আসতো, তাহলে সরকারের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যেত।  মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রোমে বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার মতো অর্থ বা আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য ছিল না। 

কোথা থেকে শুরু করব, বুঝতেই পারছিলাম না। তখন প্রবাসীদের রেমিট্যান্স আমাদের জন্য এক শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়ায়।”

তিনি আরও বলেন, ইতালিতে বাংলাদেশিদের বিষয়ে কিছু সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে।  দেশটি অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশিরা যেকোনো দেশে গেলে মাঝে মাঝে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টা রোমে ডব্লিউএফপি’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান কার্ল স্কাউরের সঙ্গে বৈঠক করেন।  সেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি ও স্কুলে খাদ্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। কার্ল স্কাউর আশ্রিত ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা (এফএও)-এর মহাপরিচালক ড. কু ডংইউর সঙ্গে তিনটি নতুন খাতে সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। 

বৈঠকে গভীর সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফল রফতানির জন্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তি উন্নয়ন, এবং ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও স্বল্পমূল্যের বহনযোগ্য কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. কু ডংইউ বৈঠকে বাংলাদেশকে ‘উচ্চ কর্মদক্ষ দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কারিগরি সহায়তা এবং উদ্ভাবন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এফএও সহযোগিতা করবে।