টেস্ট ক্রিকেটে তৃতীয় দিনকে বলা হয় 'মুভিং ডে', যেখানে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় একদিকে বা অন্যদিকে। লাহোর টেস্টের তৃতীয় দিন তেমনই হলো।
দিনের শুরুতে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের বিশাল স্কোরের পেছনে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ পর্যন্ত প্রোটিয়ারা সেই ব্যবধান কমাতে পারেনি, বরং ১০০ রানেরও বেশি লিড দেয় স্বাগতিকদের। এরপর পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিল ৪ উইকেট ১৫০ রানে। কিন্তু মুথুস্বামী ও সায়মানের ঘূর্ণিতে ১৬৭ রানে গুটিয়ে যায়। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় তুলনামূলক কম, ২৭৭ রান।
তবে বল হাতে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। দিনের শেষ দিকে তারা দ্রুত আঘাত হানে, ফিরিয়ে দেয় অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ও উইয়ান মুল্ডারকে। বিশেষ করে মার্করামের আউটটি আসে এক অনর্থক শট খেলার চেষ্টায়। স্পিনার নোমান আলি আবারও ছিলেন উইকেট শিকারিদের মধ্যে, ধারাবাহিকভাবে তার ঘূর্ণিতে বিপাকে পড়ে আফ্রিকার ব্যাটাররা।
দিনের শেষ দিকে আর কোনো উইকেট না পেলেও পাকিস্তান স্পষ্টভাবেই নিয়ন্ত্রণে আছে টেস্টের। লাহোরে এই টেস্ট জিততে হলে রেকর্ড রান তাড়া করে জিততে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। গাদ্দামী স্টেডিয়ামে চতুর্থ ইনিংসে সর্বাধিক রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ইংল্যান্ডের, ১৯৬১ সালে ইংল্যান্ড ২০৮ রান তাড়া করে সফল হয়েছিল তারা। প্রথম ইনিংসে ২৬৯ করা প্রোটিয়াদের জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জই তা।
তৃতীয় দিনের সকালে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ করে দেন সজিদ খান ও নোমান। সজিদের বলে মুথুস্বামি স্লিপে ক্যাচ দেন আগা সালমানের হাতে। এরপর ৮১ রান নিয়ে দিন শুরু করা টনি ডে জরজি ঝুঁকি নিয়ে ব্যাট করতে থাকেন। সজিদকে চার, নোমানকে ছক্কা মেরে পৌঁছান ৯৬-এ। পরের ওভারেই নোমানকে রিভার্স সুইপ করে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রথম সেঞ্চুরিটিও ছিল তার উপমহাদেশের মাটিতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে।
কিন্তু আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই শেষ পর্যন্ত তাঁর পতনের কারণ হয়। নোমানের বলে লং-অন বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন শাহীন শাহ আফ্রিদির হাতে। নোমান শেষ করেন ১১২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে।
দ্বিতীয় ইনিংসে নামলে শুরুতেই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটিং করেন পাকিস্তানের ওপেনাররা। সাইমন হারমারের ঘূর্ণিতে শূণ্যতে স্টাম্পড হন ইমাম-উল-হক। নতুন বলে দুর্দান্ত স্পেল করেন কাগিসো রাবাদা, যিনি তিনবার আবদুল্লাহ শফিকের ব্যাটের কানায় বল লাগালেও সবকটিই চার হয়ে যায়।
রাবাদার চাপ থেকে সুবিধা পান হারমার—শন মাসুদ হান এলবিডাব্লিউ।
বাবর আজম যদিও রাবাদার এক এলবিডব্লিউ রিভিউ থেকে বেঁচে যান—বলটি অফস্টাম্পের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। ৮১ মিনিটে ৪২ রান করে রাবাদার বলেই এলবিডাব্লিউ হয়েছেন তিনি।
৪ উইকেটে ১৫০ রানে পৌছানো মুথুস্বামী আর হারমারের স্পিনে ১৭ রানেই হারায় শেষ ৬ উইকেট। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ১০ উইকেট নিয়েছেন মুথুস্বামী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ৩৭৮ (আগা ৯৩, ইমাম ৯৩, মাসুদ ৭৬, রিজওয়ান ৭৫, মুথুস্বামি ৬-১১৭) ও ১৬৭ (বাবর ৪২, মুথুসামি ৫-৫৭, হারমার ৪-৫১)
দক্ষিণ আফ্রিকা ২৬৯ (ডে জরজি ১০৪, নোমান ৬-১১২, সজিদ ৩-৯৮) ও ৫১/২ (রিকেলটন ২৯*, ডে জরজি ১৬*, নোমান ২-২০)
প্রথমবার জাপানের কাছে হেরে গেলো ব্রাজিল