ব্লু সামুরাইতে কাটা পড়ল ব্রাজিল

স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসের অধ্যবসায়ের গল্প জানা আছে অনেকেরই। তবে জাপানিদের অধ্যবসায়ও কম নয়। সেই ১৯৮৯ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল আর জাপান, এরপর আরও ১৩ বার। কিন্তু জয়ের দেখা পায়নি জাপানিরা, দুটো ম্যাচ ড্র আর বাকি ১১ ম্যাচে ব্রাজিলের জয়। এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক। তবে ক্রমশ ব্যবধান কমিয়ে এনে জাপান অবশেষে হারিয়েই দিয়েছে ব্রাজিলকে। টোকিও স্টেডিয়ামে কিরিন চ্যালেঞ্জ কাপের ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছে জাপান, ১৪ দেখায় ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের প্রথম জয় এসেছে ডাচ ক্লাব ফেইনুর্দে খেলা ফরোয়ার্ড আইসে উয়েদার জয়সূচক গোলে।

লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শেষ, ২০২৬ বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে গেছে ব্রাজিলের। জাপানেরও নিশ্চিত হয়েছে বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক সূচির সপ্তাহে দুই দল খেলল কিরিন চ্যালেঞ্জ কাপে, ৪৭ বছরের পুরনো যে আসরে অতীতে খেলেছে আর্জেন্টিনাও। যদিও প্রীতি ম্যাচ, তবে উত্তেজনার কোনো কমতি থাকে না এই আয়োজনে। টোকিও স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের কাছে প্রথমার্ধে দুটো গোল হজম করে পিছিয়ে থাকা জাপান দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোল করে কান্নায় ডুবিয়েছে সেলেসাওদের।

ম্যাচে বলের দখল বেশি ছিল ব্রাজিলিয়ানদের পায়েই প্রায় ৬৭ শতাংশ। তবে গোলে শট জাপানিরাই নিয়েছে বেশি, ১৫টি যার ৬টা ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ব্রাজিলের গোলমুখী শট ৮টা যার ৪টা ছিল লক্ষ্যে। ম্যাচের ২৬ মিনিটেই পাউলো হেনরিকের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল, অ্যাসিস্ট ছিল ব্রুনো গুইমারেসের। রোমায় খেলা ওয়েসলি ফ্রাঙ্কার চোটে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিপক্ষে দুটো ম্যাচে তাকে দলে নেন কার্লো আনচেলত্তি, ব্রাজিলের জার্সিতে ভাস্কো দা গামা ফরোয়ার্ডের এটাই প্রথম গোল। ৩২ মিনিটে আবারও গোল ব্রাজিলের, ৬ গজ বক্সের ভেতর থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলির বাম পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ। প্রথমার্ধ শেষে ব্রাজিল ২-০ জাপান। এমন ম্যাচও ব্রাজিল হারে! হেরে যাওয়ার পর কোচ আনচেলত্তি বলেছেন উচিত শিক্ষা হয়েছে আর সেই শিক্ষা দিয়েছেন জাপানের মিনামিনো, নাকামুরা আর উয়েদা।

দ্বিতীয়ার্ধে জাপানের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুটা তাকুমি মিনামিনোর গোলে। মোনাকো এফসির হয়ে খেলা এই উইঙ্গার খেলা শুরুর মিনিট সাতেকের মাথায় ব্রাজিলের রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন মিনামিনো। এই গোলের ১০ মিনিট পর দারুণ গোলে সমতা ফেরায় জাপান, ডান প্রান্ত থেকে জুনিয়ো ইতোর ক্রসে চলতি বলে দারুণ শটে গোল করেন কেইতো নাকামুরা। ৬২ মিনিটে স্কোরলাইনে ফের সমতা, এবার ২-২। ৭১ মিনিটে কর্নারের পর নেওয়া ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে জটলা থেকে হেডে গোল করে উয়েদা, ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় জাপান। শেষ বাঁশিতেও অটুট থাকে এই স্কোরলাইন।

হারের পর আনচেলোত্তি বলছেন, ‘আমরা আগের দিনই আলাপ করছিলাম, এই আন্তর্জাতিক সূচির জানালাটা আমরা বরাদ্দ রেখেছি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য।  নভেম্বরেও আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাব। আমাদের পরিকল্পনা বদলাবে না। এই রাতটায় আমাদের বড় একটা শিক্ষা হয়েছে, এই ম্যাচ থেকে আমাদের অনেক কিছু শিখতে হবে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে’।  অধিনায়ক কাসেমিরো ও গ্লোবো টিভিকে বলেছেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের সবার মধ্যে যেন ব্ল্যাক আউট কাজ করেছিল, এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলা, এখানে একটা অর্ধে ঘুমিয়ে থাকলে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা বা অলিম্পিক পদক যে কোনো কিছুই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।’