৩৫ মিনিটে তারেক কাজীর মহাভুলের খেসারত দিতে হয় বাংলাদেশকে। তার কাছ থেকে পেনাল্টি উপহার পেয়ে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিক হংকং চায়না। এরপর থেকেই বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার সংগ্রাম। ৭৬ মিনিটে হংকং ১০ জনের দলে পরিণত হলে সুযোগটা আসে। ৮৭ মিনিটে রাকিব হোসেন কাক্সিক্ষত গোলটা পেয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতা রেখে শেষ হয় ম্যাচ। অন্য ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে সিঙ্গাপুরের ২-১ গোলের জয়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে হাভিয়ের কাবরেরার দলের। বিদায় ঘণ্টা বেজেছে ভারতেরও। হংকংয়ের মাঠে স্বাগতিকদের জিততে না দেওয়ার স্বস্তি আছে ঠিক। তবে ৩৫ বছর পর মূল পর্বে যাওয়ার পথটা ফুরিয়ে যাওয়ার আক্ষেপা সঙ্গী করেই ফিরতে হবে বাংলাদেশকে।
এই ড্রয়ে আক্ষেপটা বাড়ছেই। সেটা ঘরের মাঠে দুই ম্যাচে জিততে না পারার। মার্চে ভারতে গিয়ে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরে আসার পর জুনে সিঙ্গাপুরের কাছে জেতা ম্যাচ ২-১-এ হার। আর ৯ অক্টোবর ঢাকায় হংকংয়ের সঙ্গে সাত গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচের ফল নিজেদের করা যায়নি ডিফেন্ডারদের শিশুতোষ সব ভুলে। দুই অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে পাওয়া দুই পয়েন্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা সুতোয় ঝুলছে। হংকং আট পয়েন্টে আছে এইচ গ্রুপের শীর্ষে, সমান পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সিঙ্গাপুর। এ দুই দল মুখোমুখি হবে পরের রাউন্ডেই। অর্থাৎ কেউ অন্তত এক পয়েন্ট হলেও পাবেন। তাতে বাংলাদেশ যদি শেষ দুই ম্যাচে জেতে, কোনো লাভ হবে না।
এ কারণেই কাই তাক স্পোর্টস সিটিতে প্রায় ৪৫ হাজার স্বাগতিক দর্শকের সামনে জয়টা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল হাভিয়ের কাবরেরার দলের জন্য। অবশ্য কোচের অদ্ভুত কৌশল দেখে মনে হয়নি এ ম্যাচটা বাংলাদেশ জেতার জন্য খেলছে। জয় যখন একমাত্র লক্ষ্য, তখন এ কোচ খেলালেন পাঁচ ডিফেন্ডার! ৫-৩-২ ফরম্যাশনের সঙ্গে আত্মস্থ হতে গিয়েই কেটে যায় অনেকটা সময়। সুযোগে তারিক কাজীর ভুলে ৩৫ মিনিটে এগিয়েও যায় হংকং। হংকংয়ের একটা নিষ্ফলা আক্রমণের পর গোল কিক থেকে বল পেয়ে তপু বর্মণ আড়াআড়ি পাস দিয়েছিলেন তারিককে। সে বল আয়ত্তে নিতে গিয়ে পিছলে পড়েন তিনি। বেরিয়ে যাওয়া বল ধরতে দৌড়ে গিয়েছিলেন ফার্নান্দো পেরেইরা। তারিক অবস্থা বেগতিক দেখে শুয়ে পড়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে লাথি মেরে বসেন পেরেইরা বুটে। জাপানি রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। আর স্পট থেকে মিতুল মারমাকে সহজেই বোকা বানান হংকং অধিনায়ক ম্যাট অর।
তারিকের এমন ভুলে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশকে প্রথমার্ধের বাকি সময়েও দিকহারা পথিক মনে হয়েছে। যদিও বিরতিতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ভালো একটা সুযোগ ছিল সমতায় ফেরার। ডান দিক থেকে সাদ উদ্দিনের লো ক্রস হেড করে শমিত সোমের উদ্দেশ্যে নামিয়ে দিয়েছিলেন হামজা চৌধুরী। তবে বল শমিতের কাছে পৌঁছানোর আগেই হংকংয়ের এনগান চেউক পান তা ক্লিয়ার করেন। বিরতি থেকে ফেরার পরপরই হংকং ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। পুরো ম্যাচে নিভে থাকা শেখ মোরসালিন বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে পেয়ে গিয়েছিলেন পেরেইরা। তবে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে তার শট মিতুলকে পরাস্ত করলেও পোস্টে বাতাস লাগিয়ে বাইরে যায়।
এরপর অবশ্য বাংলাদেশ কিছুটা আগ্রাসী হয়ে খেলেছে। বিশেষ করে ৬৪ মিনিটে ফাহামিদুল ইসলাম ও জামাল ভূঁইয়া মাঠে এলে আক্রমণের ধার বাড়ে বাংলাদেশের। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ফাহামিদুল পরীক্ষা নিয়েছিলেন হংকং কিপার সে কা উইংকে। তবে বক্সের বাইরে থেকে তার ডান পায়ের জোরালো শট সহজেই আয়ত্তে নেন হংকং কিপার। ফাহামিদুল ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা সুযোগটা নষ্ট করেন কয়েক মিনিট বাদেই। ডান দিক থেকে সাদ উদ্দিনের নিখুঁত ক্রস ভালো জায়গায় থেকেও ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে পারেননি ইতালি লিগে খেলা এই উইঙ্গার। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে হংকং শিবিরে বড় ধাক্কা লাগে ডিফেন্ডার অলিভার বেঞ্জামিন শমিত সোমকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে। সেই দুর্বলতার সুযোগটাই বাংলাদেশ কাজে লাগিয়েছে ৮৭ মিনিটে। মোরসালিনের বদলি হিসেবে মাঠে আসা ফয়সাল আহমেদ ফাহিম বাঁ দিক থেকে ক্রস ফেলেছিলেন। ফাহামিদুল হেড করে বল ঠেলেন গোলমুখে। মার্কারকে সুযোগ না দিয়ে রাকিব হোসেন ডান পায়ে প্লেসিংয়ে গোল করলে এক পয়েন্ট নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
ঘরের মাঠে ৪-৩ হারের ম্যাচে একাদশ ও পরিবর্তন নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। এ ম্যাচেও নিজেকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে পারেননি কোচ। শুরু থেকেই নেতিবাচক কৌশল নিয়ে বাংলাদেশকে আগ্রাসী হতে দেননি তিনি। এর পরও কোচের চাকরি টিকে যাবে কি না, সেটা এখন দেখার বিষয়। বলটা এখন বাফুফের সভাপতি ও জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান তাবিথ আউয়ালের কোর্টে।