কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি এক্সএআই একটি ডিজিটাল বিশ্বকোষ তৈরি করছে। যার নাম হবে ‘গ্রোকিপিডিয়া’। এমনটাই জানিয়েছেন এক্স কর্ণধার ইলন মাস্ক। ইলন মাস্কের ভাষ্য, গ্রোকিপিডিয়া উইকিপিডিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। মাস্ক এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা গ্রোকিপিডিয়া তৈরি করছি। এটি উইকিপিডিয়ার চেয়ে অনেক উন্নত হবে।’ মাস্ক প্রায়ই উইকিপিডিয়াকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন। অতীতে তিনি এটিকে ‘ওয়োক’ আখ্যা দিয়ে অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে অর্থায়ন বন্ধের কথাও বলেছেন। গ্রোকিপিডিয়ার প্রকল্পটি এক্সএআইয়ের চ্যাটবট গ্রক ব্যবহার করে তৈরি করা হবে। মাস্ক এই চ্যাটবটকে ওপেনএআই ও চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চালু করেছিলেন।
মাস্ক সম্প্রতি এক পডকাস্টে বলেছেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মানুষের মতো উইকিপিডিয়ার স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ করতে পারবে। যেমন এডিট ও আপডেট করা। এ ছাড়া যেকোনো পক্ষপাত বা ভুল তথ্য শনাক্ত করবে। এক্সএআইয়ের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ‘গ্রোক’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে গ্রোকিপিডিয়া। ২০২৩ সালের শেষ দিকে এক্সএআই এই গ্রোক উন্মোচন করে, যা মূলত ওপেনএআইয়ের তৈরি চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাজারে আনা হয়।
উইকিপিডিয়ার বিষয়ে মাস্কের অসন্তোষ নতুন নয়। তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন, প্ল্যাটফর্মটি রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট এবং তথাকথিত ওয়োক আদর্শে প্রভাবিত। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের অর্থায়ন মডেল নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ প্রতিষ্ঠানটি মূলত ব্যবহারকারীদের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। এর আগে, ২০২৩ সালে মাস্ক টুইট করে বলেছিলেন, যদি উইকিপিডিয়া তার নাম পরিবর্তন করে ‘ডিকিপিডিয়া’ করে, তাহলে তিনি ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিতে প্রস্তুত।
মাস্ক জানিয়েছেন, গ্রোকিপিডিয়া উইকিপিডিয়ার মতো সাধারণ মানুষের সম্পাদিত বিশ্বকোষ হবে না। বরং এটি তৈরি হবে গ্রোক এআইকে কেন্দ্র করে, যা এক্সএআইয়ের তৈরি একটি চ্যাটবট। ২০২৩ সালের শেষ দিকে মাস্ক গ্রোক চালু করেন, যা ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। মাস্ক দাবি করেন, গ্রোক মিথ্যা শনাক্ত করতে, আংশিক সত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং অনলাইনে তথ্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করতে সক্ষম।
মাস্কের এআই সিস্টেম নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। চলতি বছরের শুরুতে গ্রোক এক উত্তরে বলেছিল, আমেরিকার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর তিন ব্যক্তি হলেন ইলোন মাস্ক, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স। পরবর্তীতে গ্রোক ৪ সংস্করণ চালুর পর এআই বটকে একসময় হিটলারকে প্রশংসা করতে দেখা যায়। এসব ঘটনার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। মাস্ক পরে ব্যাখ্যা দেন, ব্যবহারকারীরা গ্রোককে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘প্রলুব্ধ’ করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘গ্রোক তখন অতিরিক্ত ভদ্র ও ব্যবহারকারীর কথামতো কাজ করতে আগ্রহী ছিল। এখন সেটি সংশোধন করা হচ্ছে।’