প্রথমবার রাজস্বের ভাগ পাবে বিপিএলের দলগুলো

বিপিএল আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ পুরোপুরি কাটেনি, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবারের আসর নির্ধারিত সময়েই মাঠে গড়াবে। ডিসেম্বর-জানুয়ারির উইন্ডো ধরে রাখার পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু নতুন ও আকর্ষণীয় সিদ্ধান্ত—এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘোষণা হলো প্রথমবারের মতো রাজস্ব ভাগাভাগি পদ্ধতি চালু করা।

বুধবার বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান বিসিবির নবনির্বাচিত পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।

বিপিএল সময়মতোই, পিছানোর ভাবনা নেই
বিপিএল পিছিয়ে এপ্রিল-মেতে নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমানের কাছ থেকে, তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান। আমজাদ বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু বিবেচনা করলে এপ্রিল-মে মাসে সবসময় বৃষ্টি থাকে। এছাড়া ঐ সময় পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ রয়েছে। তাই ডিসেম্বর-জানুয়ারিই একমাত্র উপযুক্ত সময়।”

প্লেয়ার্স ড্রাফট ১৭ নভেম্বর
প্লেয়ার্স ড্রাফটের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর। বিসিবির লক্ষ্য নভেম্বরের শেষ দিকেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বিপিএল শুরু করা।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ও ব্যাংক গ্যারান্টি
ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি টাকা, যা প্রথম বছরের জন্য প্রযোজ্য। পাঁচ বছরের মেয়াদে প্রতি বছর ফি বাড়বে ১৫% করে। এছাড়া প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে, যাতে প্লেয়ার পেমেন্ট ও টুর্নামেন্ট পরিচালনায় কোনো জটিলতা না হয়।

প্রথমবারের মতো রাজস্ব ভাগাভাগি
বিপিএলের ইতিহাসে এবারই প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাবে টুর্নামেন্টের রাজস্বের অংশ। আমজাদ হোসেন জানান, 'আমাদের তিনটি বড় আয়ের উৎস—ওয়ার্ল্ডওয়াইড মিডিয়া রাইটস, গ্রাউন্ড রাইটস ও টিকেট বিক্রি। এই তিন উৎস থেকে নেট প্রফিটের ৩০ শতাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।” এছাড়া প্রতিটি ম্যাচে মাঠের প্যারিমিটার বোর্ডে ৩০ মিনিট সময় (প্রতি দলকে ১৫ মিনিট করে) দেওয়া হবে, যেখানে নিজেদের স্পনসরের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বিনামূল্যে।

প্রাইজমানি বাড়ানো হয়েছে
চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, আর রানার্স-আপ দল পাবে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা—যা আগের আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বিদেশি খেলোয়াড় পাওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আইএল টি–টোয়েন্টি (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ও এসএ–টোয়েন্টি (দক্ষিণ আফ্রিকা) চলার কারণে বিদেশি খেলোয়াড় পাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তবে আমজাদ হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন, “গতবারের মতো এবারও যথেষ্ট মানসম্মত বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়া যাবে।”