গাইবান্ধার দুই কলেজে শতভাগ ফেল

গাইবান্ধার দুই কলেজের এবারের প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি কলেজ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, সেও ফেল করেছেন। অপর কলেজে ছয়জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন, কিন্তু কেউ পাস করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মীর সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজ: এখানে একমাত্র পরীক্ষার্থী অংশ নেন এবং সেও ফেল করেছেন। গত বছরও এই কলেজের পাশের হার শূন্য ছিল। কলেজের অফিস সহকারী সাহারা বেগম জানান, শিক্ষার্থী অনিয়মিত হওয়ায় এবং দুই বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার কারণে ফলাফল শূন্য হয়েছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি এখনও এমপিওভুক্ত নয়। এ কারণে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহী নয়। এবার একাদশ শ্রেণিতে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া উচ্চবিদ্যালয়: ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১৩ সালে কলেজে উন্নীত এই প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। তাদের মধ্যে ২ জন অনিয়মিত ছিলেন। ঘগোয়া কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান স্বপনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, “দুটি কলেজ থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি, শিক্ষক সংকট, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবকে ফলাফলের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। 

সচেতনরা বলছেন, গ্রামীণ অঞ্চলের ছোট কলেজগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক দুর্বলতা, শিক্ষক স্বল্পতা ও প্রশাসনিক নজরদারির কারণে শিক্ষার মান ক্রমশ কমে আসছে। এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং অন্যান্য সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহী নয়।