এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে পাসের হার বিগত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বছর এ বোর্ডে ফেল করেছেন ৩৪ হাজার ৭৪ জন পরীক্ষার্থী; যা বোর্ডের মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেক। এ বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৮৬। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৬০২ জন। বোর্ডের অধীন চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। গতকাল সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ফল ঘোষণা করেন।
ফলাফল বিবরণী থেকে জানা যায়, এ বছর সিলেট বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ হাজার ৯৪৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৬৯ হাজার ১৭২ জন, যার মধ্যে ছেলে ২৭ হাজার ৭৬৪ আর মেয়ে ৪১ হাজার ৪০৮ জন। মোট পাসকৃত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ৮৭০ জন। এর মধ্যে ছেলে ১৩ হাজার ৮৭০ ও মেয়ে ২২ হাজার ১ জন। মোট জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৬০২ জন; যার মধ্যে ছেলে ৬৮১ এবং মেয়ে ৯২১ জন। পাসের হারে পিছিয়ে রয়েছেন ছেলেরা। ছেলে পরীক্ষার্থীদের পাসের হার ৪৯ দশমিক ৯৬ আর মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ১৩ ভাগ। পাসের হার সবচেয়ে কম মানবিক বিভাগে। এই বিভাগে পাস করেছেন ৪৫ দশমিক ৫৯ ভাগ পরীক্ষার্থী। আর বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৯৫ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০ দশমিক ১৮। ১ হাজার ৬০২ জন জিপিএ ৫ প্রাপ্তের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭৯ জন, মানবিক বিভাগে ১৫৩ আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭০ জন। গত বছর জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৬৯৮ জন। এবার পাসের হারের মতো জিপিএ ৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ধস নেমেছে।
বোর্ডের অধীন সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে পাসের হার সবচেয়ে কম মৌলভীবাজারে আর বেশি সিলেট জেলায়। সিলেটে পাসের হার ৬০ দশমিক ৬১, হবিগঞ্জে ৪৯ দশমিক ৮৮, সুনামগঞ্জে ৪৭ দশমিক ৩৫ এবং মৌলভীবাজারে ৪৫ দশমিক ৮০। তবে গত বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৯, ২০২৩ সালে ৭১ দশমিক ৬২, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৪০, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৮০, ২০২০ সালে শতভাগ, ২০১৯ সালে ৬৭ দশমিক ০৫, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ৭, ২০১৭ সালে ৭২ ভাগ, ২০১৬ সালে ৬৮ দশমিক ৫৯, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ আর ২০১৪ সালে ৭৯ দশমিক ১৬। ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সবাইকে পাস করিয়ে দেওয়া হয়।