ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার এবং প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক পল কলিংউড উধাও হয়েছেন। তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণে’ ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করছেন না বলে জানা গেছে। অ্যাশেজের আগে এই সংবাদ ক্রিকেট মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডও (ইসিবি) বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কিছু বলছে না।
গত ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের হ্যামিলটনের তৃতীয় টেস্টে কলিংউডকে সর্বশেষ সরাসরি দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই নাকি ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক উধাও হয়েছেন। ডেইলি মেইলের রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি অ্যাশেজ দলের অংশ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তার বিরুদ্ধে অবশ্য অভিযোগের অন্ত নেই। সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে মোটা অংকের কর ফাঁকির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তার উধাও হওয়ার পেছনে এটাও কারণ হতে পারে বলে অনেকের মত।
খেলোয়াড়ী জীবনে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের ম্যাচের আগের দিন কেপটাউনের একটি স্ট্রিপ ক্লাবে গিয়ে ১০০০ পাউন্ড জরিমানা দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের এপ্রিলে ফাঁস হওয়া একটি অডি ক্লিপে একাধিক নারীর সঙ্গে কলিংউডের যৌন সম্পর্কে লিপ্ত থাকতে শোনা গেছে। তার সাবেক ইংল্যান্ড সতীর্থ গ্রায়েম সোয়ানই এই অডিও রেকর্ড ফাঁস করেন। পরে এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল।
সম্প্রতি কলিংউডের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে- তিনি নিজের স্পন্সরশিপ আয়ের বড় অংশ ‘পিডিসি রাইটস’ নামের একটি ব্যক্তিগত কোম্পানির নামে রেখে কর ফাঁকির চেষ্টা করেছেন। এই অভিযোগে তিনি যুক্তরাজ্যের রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগ এইচএমআরসির সঙ্গে মামলায় হেরে যান। আদালত তাকে তাকে ১ লাখ ৯৬ হাজার পাউন্ড (প্রায় ২ কোটি) কর পরিশোধের নির্দেশ দেয়। আপিল করেও লাভ হয়নি।
এরপর থেকেই উধাও হয়েছেন কলিংউড। ডেইলি মেইল লিখেছে, কলিংউডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইসিবি কোনো স্পষ্ট বিবৃতি দেয়নি। শুধু বলেছে, অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে যাওয়ার আগে ‘কোচিং স্টাফের এক বা দুটি পদ চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’ তাছাড়া দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আসার বিষয়ে কলিংউড বা তার কোনো প্রতিনিধির মন্তব্য পাওয়া যায়নি।