চিকিৎসাকের অবহেলায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে চিকিৎসকের অবহেলায় এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃতদের স্বজনরা ওই ক্লিনিকে বিক্ষোভ করেন এবং ক্লিনিক বন্ধের দাবি তুলেন তারা।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলা শহরের নুনিয়াগাড়ী এলাকায় মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে এ ঘটনা ঘটে।

রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় পারুল বেগমের  প্রসব বেদনা নিয়ে ওই ক্লিনিকে ভর্তি হন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। সেখানে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত (সেবিকা) নার্স ও ক্লিনিকের মালিক ফাতেমা বেগম ও অজ্ঞাত চিকিৎসক ছিলেন। অস্ত্রোপচার শেষে প্রসূতির শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে কাউকে কিছু না বলে চিকিৎসকরা চলে যান। এর ঘণ্টা খানেক পরে প্রসূতির স্বজনদের না জানিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এর আগেই নবজাতকসহ প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়। বিষয়টি স্বজনরা জানাতে পারায় রাতেই ক্লিনিকের পরিচালকসহ অভিযুক্ত চিকিৎসকরা পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা জানায়, ক্লিনিকটি মূলত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত নার্স ফাতেমা বেগমের বাড়িতে গড়ে উঠেছে। তিনি এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। এ নিয়ে অন্তত ১০ জন প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোন বার বার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া গেছে।

জেলা সিভিল সার্জ ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, পাঁচ মাস আগেও ওই ক্লিনিকে একজন প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ক্লিনিকটি লাইসেন্স রয়েছে, প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর, তারা শর্তপূরণ করায় আবার চালু করার অনুমতি পায়। নবজাতক ও প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।