রবিবার রাতে গেতাফের মাঠে একমাত্র গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে লা লিগার শীর্ষে ফিরিয়ে দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। টানা ১১ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়লেন এই ফরাসি তারকা।
শনিবার বার্সেলোনা গিরোনাকে হারিয়ে অস্থায়ীভাবে শীর্ষে উঠেছিল। কিন্তু জাবি আলোনসোর দল পরদিনই গেতাফেকে হারিয়ে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করে, ক্লাসিকোর আগেই বাড়িয়ে নেয় আত্মবিশ্বাস।
ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল খেলা। গেতাফে ভালোভাবেই টিকেছিল, কিন্তু বদলি হিসেবে নামার এক মিনিটের মাথায় অ্যালান নিয়ম লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। সেই সুযোগেই এমবাপে ৮০ মিনিটে গোল করে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ দিকে অ্যালেক্স সানক্রিসকেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়, ফলে নয়জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করে গেতাফে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে বুধবার জুভেন্টাসের বিপক্ষে ম্যাচ ও পরের সপ্তাহে বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর কথা মাথায় রেখে আলোনসো ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বেঞ্চে রেখেছিলেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই ম্যাচে প্রাণ ফেরান ভিনি—যার ওপর দুটি ফাউল থেকেই গেতাফের দুই লাল কার্ড আসে।
আলোনসো বলেন, “ভিনি দারুণ প্রভাব ফেলেছে। আমরা সকালেই তাকে বলেছিলাম—সে ম্যাচের নির্ধারক হতে পারে। গেতাফের মাঠে খেলা কখনো সহজ নয়। ম্যাচটা হয়তো খুব সুন্দর হয়নি, কিন্তু কাজটা আমরা ঠিকভাবে করেছি।”
গোঁড়ালির ইনজুরির কারণে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে না খেলা এমবাপ্পে ফেরেন এই ম্যাচে। আগের ১০ ম্যাচে টানা গোল করার ধারাটা তিনি ধরে রাখেন গেতাফের বিপক্ষেও। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এ নিয়ে টানা ১১ ম্যাচে গোল করলেন এমবাপ্পে।পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এমন কীর্তি গড়েছেন এই ফরাসি তারকা। এ ছাড়া লা লিগায় প্রথম ৯ ম্যাচে এমবাপ্পে করলেন ১০ গোল। রিয়ালের ইতিহাসে গত ৭০ বছরে তিনজন ফুটবলার এই কীর্তি গড়েছিলেন। তাঁরা হলেন আলফ্রেড ডি স্টেফানো, অ্যামানসিও এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। রোনালদো অবশ্য এই কীর্তি গড়েছিলেন চারবার।
প্রথমার্ধে গেতাফে দৃঢ় রক্ষণে রিয়ালকে গোলের সুযোগ দেয়নি। জুড বেলিংহ্যামের তৈরি আক্রমণ থেকে রদ্রিগো ও ডেভিড আলাবা দু’বার চেষ্টা করলেও গোল পাননি। বিরতির পর ভিনিসিয়ুস নেমে আক্রমণে গতি আনেন, এমবাপে একবার পোস্টের বাইরে শট নেন এবং আরেকটি ফ্রি–কিক অল্পের জন্য বাইরে যায়। শেষ পর্যন্ত ৮০ মিনিটে গোল করে রিয়ালকে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট।
হালান্ড, কেইন ও এমবাপের আগুনঝরা শুরু
লা লিগায় ধারাবাহিকতার পাশাপাশি ইউরোপের শীর্ষ তিন স্ট্রাইকার—আর্লিং হালান্ড, হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপে—তিনজনই মৌসুমের শুরুটা করেছেন দুরন্ত ফর্মে। তিনজনেরই গড় প্রতি ম্যাচে একাধিক গোল।
আর্লিং হালান্ড
ম্যানচেস্টার সিটির এই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড ইতিমধ্যে ১৩ ম্যাচে করেছেন ২৩ গোল। শুধু প্রিমিয়ার লিগেই ১১ ম্যাচে ১১ গোল। সবশেষ এভারটনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে টানা ১১ ম্যাচে গোল করার নজির গড়েছেন। দেশ ও ক্লাব মিলে মৌসুমে মাত্র এক ম্যাচে গোল পাননি তিনি। ইংলিশ কিংবদন্তি অ্যালান শিয়ারারের ভাষায়, “যদি আদর্শ সেন্টার ফরোয়ার্ড গড়তে চাও, হালান্ডকেই দেখো—তার মধ্যে আছে গতি, শক্তি, উচ্চতা, গোলের নেশা—প্রায় নিখুঁত।”
হ্যারি কেইন
বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ অধিনায়ক জার্মান ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় মৌসুমে প্রবেশ করে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে ১৯ গোল করেছেন। গত সপ্তাহে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ‘ডের ক্লাসিকার’-এ গোল করে মৌসুমে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়েছেন ২২-এ। ইংল্যান্ডের হয়ে তিন ম্যাচে তিন গোল করে বিশ্বকাপের বাছাইয়ে নিখুঁত রেকর্ডও ধরে রেখেছেন তিনি।
কিলিয়ান এমবাপ্পে
রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমেই (২০২৪–২৫) ৪৪ গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। নতুন মৌসুমে (২০২৫–২৬) ফর্ম আরও তুঙ্গে—১১ ম্যাচে ১৫ গোল, যার মধ্যে লা লিগায় ১০ ও চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫। ফ্রান্সের হয়েও ৩ ম্যাচে ৩ গোল করেছেন তিনি। ১৪ ম্যাচে মাত্র একবারই গোল পাননি, আর টানা ১১ ম্যাচে গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন।