গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় খাদিজা আক্তার (২৫) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার কালিয়াকৈর ট্রাক ষ্টেশন এলাকায় রুমাইছা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ধটে।
নিহত খাদিজা আক্তার কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর এলাকার আবির হোসেনের স্ত্রী।
এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার খাদিজার প্রসবের দিন-তারিখ ছিল। এজন্য তার পরীক্ষার জন্য উপজেলার কালিয়াকৈর ট্রাক ষ্টেশন এলাকায় রুমাইছা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে এক ক্লিনিকে নিয়ে যান তার স্বামী আবির। ওইদিন রাতেই ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে তার সিজার করা হলে ছেলে সন্তান হয়। পরে ওই নবজাতক শিশুকে ক্লিনিকের একটি সিটে নিয়ে স্বজনদের কাছে দেন নার্সরা। তারপর প্রায় ১ থেকে দেড় ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে অবস্থান করে চিকিৎসক ও নার্সরা। কিন্তু এর মধ্যে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। এতে সন্দেহ হলে নার্সদের কাছে জানতে চাইলেও তাদের মুখমণ্ডল ফ্যাকাসে হয়ে যায়। তারাও স্বজনদের কোন কিছু না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। দীর্ঘ সময় পর ওই প্রসূতি মাকে ক্লিনিকের সিটে দিলে হঠাৎ করেই কাঁপুনি দিয়ে উঠে তার শরীর। এভাবে কয়েক বার তার কাঁপন উঠলেও তেমন কোনো কর্ণপাত করেননি চিকিৎসক ও নার্সরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর প্রসূতি মায়ের অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ দেখতে পান স্বজনরা। পরে স্বজনরা ক্লিনিকে দায়িত্বরত নার্সদের ডাকেন, তারা এসে দেখেন, আর ঠিক আছে বলে চলে যান। অবশেষে সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসূতি মা খাদিজার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে মাঝে মাঝে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তার স্বামী আবিরও।
এ সময় তাদের অভিযোগ, প্রসবকালীন সময়ে চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, ভুল চিকিৎসায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও তাকে অন্য গ্রুপের রক্ত দেওয়ার কারণেই তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর খবর মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠে। এ ঘটনার পর ওই ক্লিনিক সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন ক্লিনিক সংশ্লিষ্টরা। আর প্রভাবশালীদের ভয়ে ওই ক্লিনিক থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে যান স্বজনরা। এদিকে এমন বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালালে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনসহ এলাকাবাসী। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নিহতের বাবা আমিনুর রহমান জানান, প্রসবকালীন সময়ে চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমার মেয়ে মারা যায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন লোক ছুটে এসে নিহতের বাবাকে বক্তব্য দিতে বারণ করেন এবং তাকে নিয়ে অন্যত্র নিয়ে যান তারা। এ বিষয়ে জানতে রুমাইছা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে ক্লিনিকে গেলেও সংশ্লিষ্টরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কালিয়াকৈর থানার অপারেশন (ওসি) যুবায়ের আহম্মেদ জানান, বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেন নাই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার আহাম্মেদ জানান, ওই ঘটনাটি শুনে স্বাস্থ্য বিভাগকে অবগত করেছি। তবে তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার বিষয়টি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।