দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টেও একই গল্পের পুনরাবৃত্তি—দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি স্পিনারের ঘূর্ণিতে আবারও পরাস্ত বাবর আজম। এবার বোলার দলে ফেরা কেশব মহারাজ।
প্রথম টেস্টের মতো এবারও বাবরের সামনে মঞ্চ ছিল তৈরি—দলের অবস্থান তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ, দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল বাবরের ব্যাটে বড় ইনিংসের। আত্মবিশ্বাসী সূচনাও করেছিলেন। কিন্তু মহারাজের ঘূর্ণি ফাঁদে আটকে মাত্র ২২ বলে ১৬ রান করে ফেরেন সাবেক অধিনায়ক। রাউন্ড দ্য উইকেট এসে মহারাজের করা বল স্টাম্পে পড়তেই বাবর সামনের দিকে এগিয়ে ব্যাট বাড়ান, বল ব্যাটে লেগে লব হয়ে উঠে যায় সিলি পয়েন্টে, যেখানে ফিল্ডার ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচটি ধরে নেন। ফলে টানা দ্বিতীয় টেস্টে ব্যর্থতার মুখ দেখলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার।
মহারাজ জানতেন বাবরের দুর্বল জায়গাটা—বিশেষ করে লেফট-আর্ম স্পিনারদের বিপক্ষে তাঁর সংগ্রাম নতুন কিছু নয়। অভিজ্ঞ এই প্রোটিয়া স্পিনার আবারও সেই দুর্বলতাকে টার্গেট করে সাফল্য পেলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাবরের সমস্যা তাঁর ‘ব্যাকফুটে’ থাকা এবং পায়ের ব্যবহার না করা। স্পিনারদের বিপক্ষে তিনি প্রায়ই ক্রিজে আটকে থাকেন, ফলে বলের টার্ন ও লাইন বোঝার আগেই চাপের মধ্যে পড়ে যান। এর ফলেই ধারাবাহিকভাবে আউট হচ্ছেন একই ধরনের ডেলিভারিতে।
পরিসংখ্যানও বলছে, মাহারাজ বাবরকে টেস্টে চারবার আউট করেছেন, বাবরের মোট রান মাত্র ৬৯, গড় ১৭.২। অর্থাৎ, ঘূর্ণির এই ‘মহারাজ’ এখনো পর্যন্ত বাবরের জন্য এক অদম্য দুঃস্বপ্ন হয়েই রয়ে গেছেন।
প্রথম দিন শেষে পাকিস্তান ২৫৯/৫
আবদুল্লাহ শফিক ৫৭, ইমাম-উল-হক ১৭, শান মাসুদ ৮৭, বাবর আজম ১৬, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৯, সৌদ শাকিল ৪২*, সালমান আগা ১০*। কেশব মাহারাজ ২/৬৭, সাইমন হারমার ২/৭১, কাগিসো রাবাদা ১/৪১