পাকিস্তান টেস্ট দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শান মাসুদকে। তার জায়গায় দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন বাবর আজম। চলতি মাসের শেষদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণার অংশ হিসেবে পিসিবি এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
এর মাধ্যমে শান মাসুদের অধিনায়কত্বের একটি হতাশাজনক অধ্যায়ের অবসান হলো। প্রায় তিন বছর আগে দায়িত্ব পাওয়া মাসুদ ১৬টি টেস্টে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দিয়ে ১২টিতেই হেরেছেন। টেস্ট ইতিহাসের কোনো অধিনায়ক নিজের প্রথম ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১২টিতে হারেননি। পাকিস্তানের হয়ে শান মাসুদের চেয়ে বেশি টেস্ট হারা একমাত্র অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক (৫৬ টেস্টে ১৯ হার)। এছাড়া, শেষ ৭টি টেস্টেই টানা হেরেছে পাকিস্তান, যা তাদের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ম্যাচ হারের রেকর্ড। যার মধ্য বাংলাদেশের কাছে ঘরে-বাইরে ৪ টেস্ট হারের লজ্জাও আছে।
২০২৩ সালে যার কাছ থেকে শান মাসুদ দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেই বাবর আজমের কাঁধেই আবার ফিরে এলো পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব। অধিনায়কত্ব হারানোর পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাবর সব ফরম্যাটেই রান খরায় ভুগছিলেন, বিশেষ করে শান মাসুদের অধীনে টেস্টে তার ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ২৭-এর কিছু ওপরে।
তবে অধিনায়ক হিসেবে বাবরের আগের রেকর্ড বেশ উজ্জ্বল। তার অধীনে পাকিস্তান ২০টি টেস্টের মধ্যে ১০টিতেই জিতেছিল। যার মধ্যে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারানো এবং বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব রয়েছে। অধিনায়ক থাকাকালীন টেস্টে বাবরের ব্যাটিং গড় ছিল ৫০-এর ওপরে। তবে তার নেতৃত্বে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার তেতো স্মৃতিও রয়েছে পাকিস্তানের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের সময়সূচি
১ম টেস্ট: ২৫–২৯ জুলাই, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো
২য় টেস্ট: ২–৬ আগস্ট, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ করেই পাকিস্তান দল ইংল্যান্ডে, ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবে
১ম টেস্ট: ১৯ আগস্ট থেকে, হেডিংলি (লিডস)
২য় টেস্ট: ২৭ আগস্ট থেকে, লর্ডস (লন্ডন)
৩য় টেস্ট: ৯ সেপ্টেম্বর থেকে, এজবাস্টন (বার্মিংহাম)
পাকিস্তানের ঘোষিত টেস্ট স্কোয়াড
বাবর আজম (অধিনায়ক), আমির জামাল, আবদুল্লাহ ফজল, আলী উসমান, আজান আওয়াইস, ইমাম-উল-হক, খুররম শাহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটরক্ষক), সাজিদ খান, সালমান আলী আগা, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ এবং উবাইদ শাহ।