নাসিরনগরে সচেতনতা অভিযান ও উৎসবমুখর দিন পালন

জলবায়ু সহনশীল মাছ চাষে—জীবন জীবিকায় সমৃদ্ধি আসে’। এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাছ চাষীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সচেতনতামূল কর্মশালা।

সোমবার (২১ অক্টোবর) উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও জাতিসংঘের খাদ্য এবং কৃষি সংস্থার উদ্যোগে নাসিরনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে দিনভর চলে ব্যতিক্রমধর্মী জলবায়ু বিষয়ক এ সচেতনতা অনুষ্ঠান। এ আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য ছিলো- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীদের সচেতন করা।

এ সময় অনুষ্ঠানে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফাহিমুল আরেফিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন, বিশেষ অতিথি কৃষি কর্মকর্তা, মো. ইমরান সাকিল ও এফএও কো-অর্ডিনেটর শফিউল্লাহ।
সকালের প্রথম আলোতেই শুরু হয় র‌্যালি। র‌্যালির পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজন করা হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। আশুতোষ পাইলট বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিল্পীরা রংতুলিতে এঁকেছে নদী, হাওর, আর বিপন্ন প্রকৃতির মুখ। তাদের আঁকা ছবিতে ধরা পড়ে বাস্তবতা—শুকিয়ে যাওয়া নদী, ফেটে যাওয়া মাটি, আর জেলেদের উদ্বেগভরা মুখ।

ক্ষুদে চিত্রশিল্পী তন্ময় দাস বলে, আমার ছবিতে বাবার মতো এক জেলেকে এঁকেছি, যিনি নদীতে আর মাছ পান না। তন্ময়ের মতো অনেক শিশুই এঁকেছে জীবনের সংকট—নদীর বুকে পলি, বিলীন হওয়া মাছ আর ক্লান্ত মানুষের মুখ।
দুপুরে মঞ্চে ওঠে আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিশু শিল্পীরা। নাটিকার নাম—‘নদী শুকালে জীবন থামে’। গল্পে উঠে আসে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা—নদী হারালে জীবিকা হারায়, মাছ হারালে হারায় গ্রামীণ জীবন।
দিনের শেষভাগে শিক্ষার্থী ও মাছচাষীদের সম্মিলিত কণ্ঠে ধ্বনিত হয় কোরাস— ‘মানুষ হইয়া মানুষের আমরা ক্ষতি করতাসি, নিজের হাতে দেশের সম্পদ নষ্ট করতাসি।

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ মোবাকবেলায় স্থানীয় জনগনের সচেতনতামূল অংশগ্রহণ জরুরী। এ সমস্যা শুধু শহরের সমস্যা নয় গ্রামেও হচ্ছে। নদী, খাল, বিল—যাদের জীবিকা এদের সঙ্গে জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়।