ভিন্ন গ্রুপের রক্ত পুশ করায় সেই প্রসূতির মৃত্যু

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের রুমাইছা জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি অবৈধ ক্লিনিকে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত পুশেই প্রসূতি মা খাদিজা আক্তারের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত ও ক্লিনিক পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান তদন্ত কর্মকর্তারা। নিহত খাদিজা উপজেলার চাপাইর এলাকার আবির হোসেনের স্ত্রী।

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে কালিয়াকৈর ট্রাক স্টেশন এলাকায় রুমাইছা জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে অবৈধ ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে প্রসূতি-মা খাদিজার ছেলেসন্তান হয়। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. জাকিয়া সুলতানা ও তার দল খাদিজার সিজার করেন। কিন্তু সিজারকালীন সময় তারা অন্য এক রোগীর জন্য রাখা ভিন্ন গ্রুপের রক্ত তার শরীরে পুশ করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কৌশলে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। গত সোমবার ভোরে সেখানে প্রসূতি খাদিজার মৃত্যু হয়।

পরে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ওই ঘটনাটি ধামাচাপা দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এসব বিষয় মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে ওইদিন বিকেলে এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরের দিন মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসলিম মুনমুনের নেতৃত্বে তদন্ত টিম ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুরে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের নেতৃত্বে অপর একটি দল প্রসূতি-মা খাদিজার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে যান। তদন্তে অন্য রোগীর জন্য রাখা ভিন্ন গ্রুপের রক্ত পুশ করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়াও লাইসেন্স নবায়ন না করে অবৈধভাবে নানা অনিয়মের মাধ্যমে ওই ক্লিনিকটি পরিচালিত করা হচ্ছিল। ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুসহ নানা অভিযোগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ওই অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান জানান, ক্লিনিকটি অবৈধভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে চারজন রোগী থাকায় বুধবার (আজ) পর্যন্ত ক্লিনিকটি চালু থাকবে। এরপর আগামীকাল থেকে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।