আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে তারা আসছে নভেম্বরে উইন্ডোতে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে। আফগানিস্তান ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাকে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে নিজেদের হোম করেছে এএফসির অনুমতি নিয়ে। মূল পর্বের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া আফগানিস্তান ১৮ নভেম্বর ম্যাচটি খেলবে মিয়ানমারের সঙ্গে। সেদিন বাংলাদেশও দেশের মাটিতে বাছাইয়ের ম্যাচে আতিথ্য দেবে ভারতকে। এর আগে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ঢাকাতেই মুখোমুখি হচ্ছে ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। অর্থাৎ ভারত মোকাবিলার প্রস্তুতিটা হামজা চৌধুরীরা সারবেন আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
দুবছর আগে আফগানরা ঢাকায় এসে দুই ম্যাচ খেলে গেছে বাংলাদেশের সঙ্গে। প্রীতি সিরিজে জেতেনি কোনো দল। দুটি ম্যাচ শেষ হয় ড্রয়ে। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় প্রথম ম্যাচ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় ম্যাচ ১-১ অমীমাংসিত থাকে। কিংস অ্যারেনায় খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই সম্প্রতি এ মাঠকে হোম ভেন্যু করার প্রস্তাব বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে দেন আফগান ফুটবলের শীর্ষ কর্তা। তাবিথ আউয়াল বিষয়টি বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ও বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসানকে জানালে তিনি সম্মতি দেন। এরপরই দুদেশের ফুটবল কর্তারা নিজেদের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ খেলার বিষয়ে মতৈক্যে আসেন। তবে প্রীতি ম্যাচের তারিখ ও ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত করেনি বাফুফে। ইমরান বলেন, ‘ম্যাচটা হবে এটা চূড়ান্ত হয়েছে। এ মুহূর্তে ১২ ও ১৩ নভেম্বর এই দুটো তারিখ নিয়ে কাজ করছি। জাতীয় স্টেডিয়ামেই এ ম্যাচ হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে। তারিখ এবং পারস্পরিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত হলেই আমরা প্রকাশ করব।’
২০২৬ এশিয়ান কাপে খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়েছে দুদলেরই। বাংলাদেশ সি গ্রুপে দুই পয়েন্ট নিয়ে এ মুহূর্তে আছে তৃতীয় স্থানে। শেষ দুই ম্যাচে জিতলে তাদের সংগ্রহ হবে আট পয়েন্ট। আট পয়েন্ট করে আছে হংকং চায়না ও সিঙ্গাপুরের। শেষ দুই ম্যাচ ডে’তে হংকং ও সিঙ্গাপুর মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচেই এদের একটি অথবা দুটিই চলে যাবে বাংলাদেশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। অন্যদিকে চার ম্যাচ শেষে ই গ্রুপে আফগানিস্তান দুই পয়েন্ট নিয়ে আছে
তৃতীয় স্থানে। এ গ্রুপে এর মধ্যেই চার ম্যাচ জিতে মূল পর্ব অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে সিরিয়া। অর্থাৎ দুদলেরই বাছাইয়ের শেষ দুই ম্যাচ স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার ও র্যাংকিংয়ে উন্নতির সুযোগ।
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎগুলোতে আফগানদের হারানোর অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশের। তবে দুবছর আগে কিংস অ্যারেনায় দুই ড্র সামনের প্রীতি ম্যাচে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে বাংলাদেশকে।