ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি ও এনসিপি নেতাদের বাজার পরিদর্শন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দবাজারের বাঁশবাজার এলাকায় হাটবাজার শ্রেণির খাস জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের টানানো সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা ও সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা পুরোনো বাঁশবাজার ও আনন্দবাজার এলাকা পরিদর্শন করে বন্দোবস্ত বাতিলের দাবি জানান।

সদর উপজেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার-সংলগ্ন পুরোনো বাঁশবাজারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের হাটবাজার শ্রেণির পেরিফেরিভুক্ত ২০ দশমিক ৯৪ শতাংশ জায়গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৩ জনের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। গত ২১ অক্টোবর জায়গাটিতে উপজেলা হাটবাজার শ্রেণির পক্ষে সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়। এরপরই বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন এবং একই দিনে বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেন।

এ ঘটনায় পৌর ভূমি কার্যালয়ের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বাদী হয়ে পূর্ব কান্দিপাড়ার (মাইমলহাটি) আবুল হাসনাত ওরফে ভজনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি মামলা করেন।

গত বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি কার্যালয়ের ১৫–২০ জন কর্মকর্তা পুরোনো বাঁশবাজারের খাস জায়গার সীমানা নির্ধারণে গেলে, আবুল হাসনাতের নেতৃত্বে শতাধিক লোক সরকারি কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এতে ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন।

একই দিন বেলা আড়াইটার দিকে সদর উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও থানা পুলিশ আনন্দবাজারে অভিযান চালায়। বন্দোবস্ত দেওয়া জায়গার উত্তর দিকে থাকা অবৈধ দোকান, স্থাপনা ও আনন্দবাজারের তোহা বাজারের অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া। তিনি ব্যবসায়ীদের অবৈধভাবে বাজার পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে আবুল হাসনাতসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১১০ জনকেও আসামি করা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক আজিজুর রহমান লিটন, সংগঠক মো. নাহিদুল ইসলাম ও পাপেল ইসলাম আনন্দবাজার এলাকা পরিদর্শন করেন। একই সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, সদস্য ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন ও মনির হোসেন, যুববিষয়ক সম্পাদক নিয়ামুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দীলিপ, জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদসহ নেতাকর্মীরা পুরোনো বাঁশবাজার ও আনন্দবাজারের তোহা বাজার পরিদর্শন করেন।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি এবং এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক আজিজুর রহমান লিটন বলেন, জায়গাটি ৩৩ জনের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন তালিকা প্রকাশ করেনি। তারা দাবি করেন, যানজট নিরসনের জন্য পুরোনো বাঁশবাজার স্থানান্তর করে ট্রাক স্ট্যান্ড করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তাই বন্দোবস্ত বাতিলের দাবি জানান তারা।