বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পর ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অধিনায়কত্ব করেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ, সেই ভরসায় ওয়ানডে দলের নেতৃত্বের দায়িত্বও দেয়া হয় তাকে। তবে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে পরিসংখ্যান খুব একটা পাতে তোলার মত নয়। অধিনায়ক হিসেবে ১৩ ম্যাচে ৩ জয়। তারপরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যদি তাকে টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেয়, তাহলে সাদাপোষাকের ক্রিকেটেও নেতা হতে রাজি মিরাজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ। মিরাজের নেতৃত্বে এটাই বাংলাদেশের প্রথম কোন ওয়ানডে সিরিজ জয়। সংবাদ সম্মেলনে এসে মিরাজ জানিয়েছেন একটু একটু করে শিখছেন অধিনায়কত্ব, 'দেখেন আগে একটা কথা বলি আমার কিন্তু এটা নিয়ে আমার তিন নাম্বার সিরিজ চলছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমি ক্যাপ্টেনসি করেছি তখন তো আমি (নিয়মিত) অধিনায়ক ছিলাম না। ওই সিরিজে শান্ত অধিনায়ক ছিল। ও ইনজুরি থাকার কারণে আমি অধিনায়কত্ব করেছি। দিনশেষে আমার জন্যই অবশ্যই অনেক কঠিন প্রথম দিকে আমি যখন করেছি (অধিনায়কত্ব)। এখন যত আমি করবো তত আস্তে আস্তে আমি অনেক কিছু লেভেল আপ হবে।'
আপাতত ১ বছরের জন্য মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক করেছে বিসিবি, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা বা না খেলার ছবিটা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে এই সময়েই। মিরাজ বিশ্বাস করেন, বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি অধিনায়ক থাকবেন কি না থাকবেন এর চেয়ে বিশ্বকাপে খেলাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, 'আমি অত দূর পর্যন্ত এখন চিন্তা করছি না। কারণ যেহেতু আমাকে এক বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এক বছরের ভিতর যতগুলো ম্যাচ আছে এবং বাংলাদেশকে একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য, কারণ আমাকে যখন ক্যাপ্টেন্সি দেওয়া হয়েছিল, তখন আমাদের টিমের পজিশন ছিল কত? ১০ নাম্বার। এখন আছে কত আমাদের? ১০-ই আছে। তার মানে আমি হ্যাঁ, মাঝখানে আমি অনেক ম্যাচ হেরেছি। বাট এন্ড অফ দ্য ডে সবাই যদি পারফর্ম করতো, সবাই যদি সবার খেলাটা খেলতো, তাহলে দিন শেষে অবভিয়াসলি টিম যদি রেজাল্ট না করে, অবভিয়াসলি ক্যাপ্টেনের উপরেই আসে। বাট টিম যখন ভালো খেলে, তখন কিন্তু অবশ্যই টিমের সবাই একত্রিত হয়ে খেলেছে বলে পারফরম্যান্স হচ্ছে। বাট এটা আমি চিন্তা করছি না। কারণ ক্যাপ্টেন্সি যে আমি অনেক দূর করতে হবে, অনেক বেশি করতে হবে, এরকম কোনো কিছু না। এই ক্যাপ্টেন হয়তো আজকে আমি আছি, আমার জায়গা থেকে আরেকজন আসবে। বাট দিন শেষে কিন্তু বাংলাদেশ। আমরা বাংলাদেশের হয়ে খেলছি এবং বাংলাদেশকে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, এটাই হলো আমাদের লক্ষ্য।' টেস্ট অধিনায়কত্বের প্রস্তাব পেলে নিতে প্রস্তুত মিরাজ, ' আমাকে সুযোগ দিলে আমি টেস্ট অধিনায়ক হতেও রাজি, আমি প্রস্তুত আছি'।
মিরপুরের উইকেট নিয়ে অজস্র সমালোচনা হলেও মিরাজ ব্যাট ধরলেন 'হোম অ্যাডভান্টেজ'র পক্ষেই, ' আমরা তো সব সময় জানি মিরপুরের উইকেটটা কেমন হবে। এটা তো আমাদের কাছে নতুন কোনো কিছু না। এবং আমি তো মনে হয় ইন্টারন্যাশনাল ৯ বছর খেলছি এবং আমার যখন ডেবু হয়েছে এখানে আমি খেলেছি, এই উইকেটে খেলেছি। পার্থক্যটা ঐরকম অনেক বেশি সেরকম না। বাট আমার কাছে যে জিনিসটা মনে হয়েছে পার্থক্যটা এইটাই ছিল যে এই উইকেটে আগে যখন আমরা খেলেছি তখন একটু গ্রাস দিত। এবং এখন কিন্তু উইকেটে আর কোনো গ্রাস নেই। সো জিনিসটা হল যে এইটাই। এবং ঘাস থাকলে হয় কী, অনেক সময় স্কিট করে বলটা। এবং যেহেতু উইকেটে ঘাস নেই, সেখানে কিন্তু বলটা একটু স্লো হয়। বাট এটাই আমার কাছে মনে হয়েছে পার্থক্য। এছাড়া আর কোনো পার্থক্য আমার কাছে মনে হয় না।'