ভারতের মুম্বাইয়ে কথিত 'বাংলাদেশি' সন্দেহে বাবু আয়ান খান ওরফে 'গুরু মা' নামে এক ট্রান্সজেন্ডার নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ১৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ।
পুলিশের অভিযোগ, জাল নথিপত্র ব্যবহার করে প্রায় তিন দশক ধরে অবৈধ ভাবে ভারতে বসবাস করছিল বাংলাদেশি ট্রান্স মহিলা। আসল নাম বাবু আয়ান খান হলেও ভারতে এসে তিনি জ্যোতি নাম ধারণ করেন। তবে স্থানীয় ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের কাছে তিনি বেশি পরিচিত ‘গুরু মা’ নামে। আধ্যাত্মিক গুরুর ভান করে বাংলাদেশ থেকে ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের অন্তত ২০০ জনকে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুম্বাইয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০টিরও বেশি সম্পত্তির মালিক গুরু মা। তার বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের একাধিক থানায় পাঁচটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় গুরু মায়ের অনুসারী ২০০ জনেরও বেশি ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন।
মুম্বাই পুলিশের মতে, ভারতে ঢোকার পরে প্রথমেই নতুন অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে আসা হতো কলকাতায়। এখানে তাদের জাল নথিপত্র তৈরি করে দেওয়া হতো। তার পরে তাদের পাঠানো হতো মুম্বাইয়ে।
মহারাষ্ট্র হাউজ়িং অ্যান্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ বা MHADA-তে নিবন্ধিত ২০০টিরও বেশি ফ্ল্যাট এবং চাউল অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছিল ‘গুরু মা’। এই ফ্ল্যাট ও চাউলগুলিতেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ঘর ভাড়া দিতেন তিনি। খুব ছোট ছোট ঘর, তারই ভাড়া নেওয়া হতো মাসে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করেছেন ‘গুরু মা’। এখানেই শেষ নয়, পুলিশের দাবি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে অনেককে তিনি দেহ ব্যবসা করতেও বাধ্য করেছে।
গুরু মাকে গ্রেপ্তার করার আগে তার যাবতীয় পরিচয়পত্র বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করে মুম্বাই পুলিশ। দেখা যায় সবই জাল। এর পরেই তাকে গ্রেপ্তার করে জেরা করা শুরু করে পুলিশ। পুলিশ তার বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসন, জালিয়াতি এবং পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে।