১২ বছর আগে নিজ আঙিনায় থাইল্যান্ডের কাছে পেতে হয়েছিল ৯-০ গোলে হারের লজ্জা। আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেটাই ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। ২০১৩ সালে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের সেই ম্যাচের এক যুগ পর ফের দু'দল মুখোমুখি হয় শুক্রবার। ব্যাংককের থনবুরি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে ভাগ্য ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। পারেনি সাড়ে তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচটা জয়ে রাঙাতে। র্যাংকিংয়ে ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ড ম্যাচটা জিতেছে ৩-০ ব্যবধানে।
ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলেও দুই দলের সম্মতিতে লড়াইটা হয়েছে দর্শকশূণ্য গ্যালারিতে। নিয়ম কানুনও ছিল বেশ শিথিল। দু'দল সর্বোচ্চ ছয়টি পরিবর্তন করার সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে চেয়েছেন সবাইকে পরখ করে দেখতে। তবে পরিবর্তনগুলো দলের হার রুখতে পারেনি।
সেরাদের দিয়েই একাদশ সাজিয়েছিলেন বাটলার। গোলকিপার হিসেবে ছিলেন রূপনা চাকমা। রক্ষণে শামসুন্নাহার সিনিয়র, শিউলি আজিম, কোহাতি কিসকু ও আফঈদা খন্দকার। মাঝমাঠের দায়িত্বে ছিলেন মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্ডা, মুনকি আক্তার ও ঋতুপর্ণা চাকমা। গোলের মূল দায়িত্ব ছিল তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার সিনিয়রের। তবে বাটলারের সেরারা ম্যাচ শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই গোল হজম করে বসে।
অর্থাৎ প্রথম আক্রমণেই এগিয়ে যায় স্বাগতিক দল। রেফারির বাঁশি বাজার ৫০ সেকেন্ডে গোল করেন ওরাপিন ওয়েনগোয়েন। ম্যাচের ২৩ মিনিটে রূপনার কৃতিত্বে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের ফরোয়ার্ড একা পেয়েও রূপনাকে পরাস্ত করতে পারেননি। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে গোল পেতে পারতো বাংলাদেশ। তবে ৪০ গজ দূর থেকে মনিকা চাকমার নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৪৯ মিনিটে ফের বাংলাদেশকে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা করেন রূপনা। তবে দুই মিনিটর পর আর থাইদের থামাতে পারেননি তিনি। স্বাগতিকদের লিড দ্বিগুণ করেন বদলী ফরোয়ার্ড সাওয়ালাক পেংনাম। ৭০ মিনিটে আরও চারটা পরিবর্তন করেন বাটলার। শিউলি আযিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার ও ঋতুপর্ণা চাকমার জায়গায় আসেন হালিমা আক্তার, জয়নব বিবি রিতা, সিনহা জাহান শিখা ও নবিরণ খাতুন। ম্যাচের ৮১ মিনিটে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন থাই ফরোয়ার্ড পাত্তারানান আউপাচাই। ৮৯ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড বার উচিয়ে বাইরে যায়।
এক যুগ পর ফের হারের কষ্ট সঙ্গী হয় বাংলাদেশের।