গাজীপুরে শ্রীপুরে ‘গাজীপুর সাফারি পার্কে’ (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে) শেষ নারী জিরাফটিও মারা গেল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নরী জিরাফটির মৃত্যু হয়। এর ফলে সাফারি পার্কের আফ্রিকার সাফারি জোন এখন জিরাফ শূন্য হয়ে পড়ল।
এর আগেই এ আফ্রিকান সাফারি থেকে সবগুলো পুরুষ জিরাফ মারা গিয়েছিল। এবার এ মৃত্যুতে নারী জিরাফ শূন্য হয়ে পড়ল পার্কের আফ্রিকান সাফারি জোন।
এ নিয়ে পার্কে ক্যাঙ্গারু, টাট্টু ঘোড়া, আলপাকার পর বিলুপ্ত হয়েছে জিরাফ। জিরাফ ছিল সাফারি পার্কে সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাণি। এখন পার্কে আশা দর্শনার্থীরা জিরাফের অভাব বোধ করবেন। ফলে দর্শনার্থী কমতে পারে বলেও কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
জিরাফ মৃত্যুর ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি সাধারন ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার রাজু আহমেদ এ জিডি করেন।
মৃত জিরাফটির ময়নাতদন্ত শেষে সাফারি পাকের্র একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। এর আগের মৃত জিরাফের শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন অংশ সংগ্রহ করে (স্যাম্পল) ঢাকা কেন্দ্রেীয় পশু স্বাস্থ্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরেই অসুস্থ ছিল পার্কের শেষ নারী জিরাফটি। এটি টিবি (টিউবারকিউলোসিস) রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। অসুস্থ হওয়া জিরাফটিকে নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা দিতে একটি শক্তিশালী মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থা এটি মারা গেল।
পার্কের একাধিক সূত্র জানিয়েছে- এই সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার কিছু দিন পর দুই দফায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এদেশীয় পশুপাখি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফ্যালকন ট্রেডার্সের মাধ্যমে ১২টি জিরাফ আমদানি করা হয় সাফারি পার্কের জন্য। পরে এ পার্কে আরও ৪টি জিরাফ শাবকের জন্ম হয়েছিল যার তিনটি ছিল নারী। তবে আমদানি করে আনা জিরাফের ৮টি ছিল পুরুষ আর ৪টি ছিল নারী জিরাফ।
এগুলোর বিভিন্ন সময় টিবি রোগ আক্রন্ত হয়ে খাদ্য বিষক্রিয়া ও অন্য প্রাণির আঘাতে বেশ কিছু জিরাফ মারা যায়। এদিকে পার্কের শেষ নারী জিরাফটিও মারা গেল। এতে পার্ক এখন জিরাফ শূন্য।
এর আগে তিনটি নারী জিরাফ প্রায় চার বছর পুরুষহীন সাফারি পার্কে বিচরণ করেছে। তারা আরও বলেন এ পার্কে কাঙ্গারু, টাট্টু ঘোড়া, আলপাকা, নামের প্রাণীও ছিল যা আস্তে আস্তে মরে শেষ হয়ে গেছে। এখন ওইসব খাঁচা খালি পড়ে আছে।
পার্কে ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার রাজু আহম্দে জানান- জিরাফটি অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। এটি টিবি রোগে আক্রন্ত হয়েছিল। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। আমি নিজে জিডি করেছি। এটি পার্কে শেষ জিরাফ সদস্য ছিল।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) তারেক রহমান বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই নারী জিরাফটি অসুস্থ ছিল। বিষয়টি জানার পর একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেছে নারী জিরাফটি টিউবারকিউলোসিস (টিবি) রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। মৃত জিরাফটিকে নিয়ম অনুযায়ী পার্কে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। ২৩ অক্টোবার জিরাফটি মারা যায়। এটি পার্কের শেষ জিরাফ ছিল এবং মারা যাওয়া জিরাফটি নারী বা মাদি জিরাফ ছিল।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক জিরাফের মৃত্যুর ঘটনায় জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডায়রিতে জিরাফের মৃত্যুর কারণ হিসাবে অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।