কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মিললাইন এলাকায় রতন (৪২) নামের এক লালনশিল্পীকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখমের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টায় ঘটনাস্থলে এই হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত রতনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিল্পী রতন কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে। তিনি ‘শিল্পী সমাজ’ নামক কুষ্টিয়ার একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহসভাপতি।
পুলিশ ও আহত শিল্পী রতনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে গানের অনুষ্ঠান শেষ করে রতন কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়া লালন মাজার এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সদর উপজেলার মিললাইন এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তার পিছন থেকে হামলা চালিয়ে পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলটি অন্ধকার থাকায় কাউকে ঠিকমতো চেনা যায়নি। পরে গুরুতর রক্তাক্ত আহত রতন’কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, শুক্রবার রাত ২টার দিকে রতনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।
লালন একাডেমির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও ভবের হাট সংগীত একাডেমির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, ‘রতন লালন একাডেমির একজন নিয়মিত শিল্পী। তার ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদসহ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন লালন শিল্পী রতনের ওপর হামলা ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, হামলার সংবাদ পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলো। আক্রান্ত ওই শিল্পী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোন অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। তবে এই হামলার ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। রতনের সাথে কথা বলে পাওয়া তথ্যে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওর ছোট ভাই’য়ের একটা নারী ঘটিত বিষয় অথবা জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্ব থেকেই বিবদমান দ্বন্দের জেরে প্রতিপক্ষের কেউ এই হামলা করে থাকতে পারে। এবিষয়ে কুমারখালী ও কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।