বিএনপি ক্ষমতায় এলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের কোথায় বসবে, কীভাবে লুট করবে-সেটা নির্ধারণ করা ছাড়া এই বিভাগের আর কোনো কাজ নেই।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ইকোনমিক রিফর্ম সামিটের প্রথম দিনের এক সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
আমীর খসরু বলেন, বিএনপি সরকারের সময় আমরা এটি বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার এসে আবার চালু করেছে। নতুন বাংলাদেশে জনগণমুখী অর্থনীতি গড়তে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে হবে। ব্যাংক খাতের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার নয়। এখানে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ থাকবে না। বিএনপি কখনো বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসিতে রাজনৈতিক নিয়োগ দেয়নি।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়তে কেন ছয় মাস লাগবে? কেন সরকারি অফিসে দৌড়াতে হবে? সভ্য দেশে এমন হয় না। ব্যবসা সহজীকরণে নতুন ফর্মুলা উদ্ভাবনের দরকার নেই। বিশ্বের সর্বোত্তম নীতি গ্রহণ করলেই চলবে।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগ করে কী লাভ হয়েছে, এই প্রশ্ন তোলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর ধারণা, এতে কোনো লাভ হবে না। কারণ, দুই ভাগেই আমলারা আছেন। এনবিআর নিয়ে বিএনপির ভিন্ন পরিকল্পনা আছে বলে জানান তিনি।
আমলাতন্ত্র প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমলাতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করবে না, জবাবদিহিরও কিছু নেই। বরং আমলাদের দায়িত্ব কমিয়ে আনা হবে। সরকার পরিচালনার সব ক্ষেত্রে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হবে। সেই সঙ্গে নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব আমলাতন্ত্র নয়, নীতিনির্ধারকদের হাতেই থাকবে।