রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস জটিল হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য

হাত-পা জড়তা, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, সামান্য কাজেই ক্লান্তি প্রথমে হয়তো বিষয়গুলো তেমন গুরুত্ব পায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে এই অস্বস্তিই পরিণত হতে পারে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে, যা শুধু অস্থিসন্ধির ব্যথায় সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো শরীরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা আরএ হলো এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদী অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের অস্থিসন্ধিগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়। এটি সাধারণ আর্থ্রাইটিসের (অস্টিওআর্থ্রাইটিস) মতো কেবল বয়সজনিত ক্ষয় নয়; বরং এই রোগ অস্থিসন্ধির আবরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে ফোলাভাব, ব্যথা, জড়তা এবং সময়মতো চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস সাধারণত হাত ও পায়ের ছোট ছোট অস্থিসন্ধি থেকে শুরু হলেও, পরবর্তীতে বড় অস্থিসন্ধি এবং ফুসফুস, হৃদপিণ্ড কিংবা চোখের মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ধীরে ধীরে কিংবা কখনো কখনো নিঃশব্দে (বিনা লক্ষণে) অগ্রসর হতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এই রোগ সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে শুরু হয় এবং মহিলারা পুরুষদের তুলনায় বেশি আক্রান্ত হন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অস্থিসন্ধিতে দীর্ঘ সময় ধরে জড়তা বা শক্তভাব থাকা, একাধিক অস্থিসন্ধিতে ব্যথা ও ফোলাভাব, অজানা কারণে জ্বর বা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিভাব এসবই হতে পারে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ।

বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহৃত ডিজিজ-মডিফাইং অ্যান্টিরিউম্যাটিক ড্রাগস (ডিএমএআরডিএস) এবং বায়োলজিক ওষুধ প্রদাহ কমাতে, অস্থিসন্ধি রক্ষা করতে এবং রোগীর জীবনমান উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নিয়মিত ফিজিওথেরাপি, হালকা ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ রোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে রিউমাটোলজি ও মুসকিউলোস্কেলেটাল ডিসঅর্ডারস নিয়ে বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রদান করে আসছে। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সর্বাধুনিক বায়োলজিক থেরাপি ও আধুনিক নির্ণয় প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীদের জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন। 

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্তদের জন্য জীবনযাপন সহজ নয়, তবে এটি এখন আর অজেয় নয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক, কর্মক্ষম জীবন ফিরে পেতে পারেন। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিসন্ধির ব্যথা বা জড়তা অবহেলা না করে দ্রুত রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সচেতনতা ও আগেভাগে চিকিৎসাই পারে এই জটিল রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জীবনে ফিরিয়ে আনতে স্বস্তি ও স্বাভাবিকতা।

লেখক 
ডা. ফারজানা সুমি
এমডি (রিউমাটোলজি), এমআরসিপি (ইউকে), এফসিপিএস (মেডিসিন),
এফআরসিপি (এডিন), এফএসিআর ফেলো (আমেরিকা),
এপ্লার  ফেলোশিপ (রিউমাটোলজি), ইউলার সার্টিফায়েড (রিউমাটোলজি)
কনসালট্যান্ট- রিউমাটোলজি
এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা