থাইল্যান্ডের কাছে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচেও হারের তেতো স্বাদ পেয়েছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সোমবার ব্যাংককে পিটার বাটলারের শীষ্যদের হার ৫-১ ব্যবধানে। তিনদিন আগে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ৩-০ ব্যবধানে। এই দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশকে বাস্তবে ফিরিয়েছে থাইল্যান্ড।
এশিয়ান কাপ মূল পর্বে জায়গা পাওয়ার সাড়ে তিন মাস মাঠ নামা বাংলাদেশকে বড্ড অসহায় মনে হয়েছে র্যাংকিংয়ে ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ডের সামনে। তাছাড়া বাটলারের উচ্চাভিলাষী কৌশলের দায়ও কম নয়। নিজ দলের ডিফেন্ডারদের সামর্থ্য জানা সত্যেও থাইল্যান্ডের সঙ্গে হাই-লাইন ডিফেন্স ট্যাকটিকসে খেলেছে বাংলাদেশ। তাতে বারবার আলগা হয়ে যায় বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। সামর্থ্যের মতো গতিতেও পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশি ডিফেন্ডাররা অফসাইড ফাঁদ পাততেই পারেননি। সুযোগ পেয়ে বারবার গোলৎসবে মেতেছে স্বাগতিকরা।
এ ম্যাচে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোলটাই বাংলাদেশের মেয়েদের একমাত্র প্রাপ্তি। এ নিয়ে তিন ম্যাচ মুখোমুখি হয়ে তিনবারই থাইল্যান্ডের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করলো বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে প্রথম দেখায় ৯-০ গোলে হারার এক যুগ পর দ্বিতীয় দেখায় হারতে হয় ৩-০ ব্যবধানে। এরপর আজ ব্যবধানটা বড় হয়েছে নিজেদের রক্ষণের ব্যর্থতা আর কোচের ভুল কৌশলে। প্রথমার্ধেই থাইল্যান্ড এগিয়ে গিয়েছিল ৩-১ ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকরা আরও দুই গোল করে।
এশিয়ান কাপের মূল পর্বের প্রস্তুতি অংশ হিসেবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি খেলেছে বাংলাদেশ। তবে বাটলারের হাই-লাইন ডিফেন্স ট্যাকটিকস যে এবারও ব্যর্থ হয়েছে তা বোঝাই গেছে। কয়েক মাস আগে এশিয়ান কাপ অনূর্ধ্ব-২০ বাছাইয়েও শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে হাই-লাইন ডিফেন্স ট্যাকটিকসে খেলিয়েছিলেন বাটলার। সে ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ৬-১ ব্যবধানে। যদিও সেরা রানার্স-আপ হিসেবে মেয়েরা বয়সভিত্তিক সে আসরের মূল পর্বে নাম লেখায় অন্য ম্যাচগুলোতে বড় ব্যবধানে জেতায়।
হাই-লাইন ডিফেন্সে যে আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, শামসুন্নাহার জুনিয়র, শিউলি আজিমরা অভ্যস্ত নন, তার প্রমাণ মিলেছে আরেকবার। সামনের দিনগুলোতে হয় তাদের বাটলারের এই উচ্চাভিলাষী কৌশলে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে, নয় তো বাটলারকেই বদলাতে হবে কৌশল। নইলে এশিয়ান কাপের বড় ম্যাচে বড় লজ্জাই অপেক্ষা করছে ঋতুদের জন্য।