রাকিবুলের 'পারফেক্ট টেন' হতে দিলেন না ১৭৮ রান করা সৈকত

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৯ উইকেট আছে চার জনের। প্রথম বোলার হিসেবে ইনিংসের সবকটি উইকেট নেয়ার সুযোগ এসেছিল রাকিবুল হোসেনের কাছে। সিলেটের প্রথম ৮ উইকেটই নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর সৈকত আলি আর এবাদত হোসেনের ১৪৮ রানের রেকর্ড জুটিটাকে ভাঙলেন শহিদুল ইসলাম। ক্যারিয়ার সেরা ১৭৮ রান করে সৈকত আলি আউট। রাকিবুল চার বল পর এবাদতকে আউট করে আক্ষেপে পুড়লেন। আহা, সৈকতের উইকেটটা কেনো তিনি নিতে পারলেন না। তাহলে তো ১০ উইকেট হতো তার। 

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের সকাল শুরু করে স্বাগতিক দল ৫ উইকেটে ১৭৫ রান নিয়ে। তখনও ময়মনসিংহ বিভাগের রাকিবুল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। একে একে ফিরিয়ে দেন তোফায়েল আহমেদ, রেজাউর রহমান রাজা ও খালেদ আহমেদকে—সিলেটের প্রথম আট ব্যাটসম্যানই হয়ে যান তাঁর শিকার।

কিন্তু এখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সৈকত আলি। আগের দিন ৫৩ রানে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়ার পর সোমবার আবার ব্যাট হাতে নেমে রচনা করেন অনবদ্য ইনিংস—২৩২ বলে ১৯ চার ও ৮ ছক্কায় ১৭৮ রান। নবম উইকেটে এবাদত হোসেনের সঙ্গে ১৪৮ রানের জুটি গড়ে দলকে শুধু উদ্ধারই নয়, লিডও এনে দেন তিনি।

এবাদতও অবদান রাখেন ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ১১০ বলে ৫৮ রানে—যা তাঁর প্রথম ফিফটি। তাঁদের এই নবম উইকেট জুটি বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চতুর্থ সর্বোচ্চ।

রাকিবুলের ৯ উইকেটের ঝলক আর সৈকতের দারুণ ইনিংসে ম্যাচটি এখন পুরোপুরি ড্রয়ের পথে। সিলেট ১৩০.৩ ওভারে অলআউট হয় ৪৮৯ রানে, প্রথম ইনিংসে নেয় ৮৮ রানের লিড। দিন শেষে ময়মনসিংহ দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে করে ৫৮ রান, এখনো পিছিয়ে ৩০ রানে।
২৩ বছর বয়সী রাকিবুলের বোলিং ফিগার: ৫৫.৩ ওভারে ১৬৮ রানে ৯ উইকেট। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৯ উইকেট নেওয়া এটি পঞ্চম ঘটনা। তাঁর আগে এই কীর্তি গড়েছেন আব্দুর রাজ্জাক (দুইবার), সানজামুল ইসলাম, সাকলাইন সজিব ও মোশাররফ হোসেন রুবেল।

প্রথম জয় খুলনার

জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের খেলায় তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছে সোমবার। তিনদিনেই ফল এসেছে একটি ম্যাচের, খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা। বরিশাল প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানে অলআউট হয়ে ফলো অনে পড়ে, দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের ব্যাটিং অবশ্য একটু উন্নত হয়েছে। তাদের রান ২২৪, সর্বোচ্চ ৪৪ রান শামসুর রহমান শুভ’র। লিড ৩৭ রানের, যে রানটা টপকাতে ৩ উইকেট হারিয়েছে খুলনা। এনামুল হক বিজয় ১, সৌম্য সরকার ১০ আর ইমরানুজ্জামান ০ রানে আউট হলেও বিপদে পড়েনি মিঠুনের দল। এই ম্যাচে দায়িত্বপালন করার সময়েই অস্বস্তি বোধ করার পর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় বরিশাল দলের ফিজিও  হাসান আহমেদকে। পরে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তার। হাসানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিসিবি।

সিলেটের একাডেমি মাঠে রংপুরের বিপক্ষে ৭৫ রানের লিড নিয়েছে ঢাকা। প্রথম ইনিংসে রংপুর অলআউট হয় ৩৫৮ রানে। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ২১২ রান তুলে ৭৫ রানের লিডে আছে ঢাকা, শেষ দিনে তাদের চ্যালেঞ্জ একটা নিরাপদ সংগ্রহে পৌঁছে রংপুরকে আরেকবার ব্যাট করিয়ে অলআউট করা। ৮০ রানে অপরাজিত জিশান আলম। টেস্ট দলের সম্ভাব্য ক্রিকেটার সাদমান ইসলাম প্রথম ইনিংসে ০ রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৩৭ রান। রাজশাহীতে চট্টগ্রামের বিপক্ষে শেষ দিনে রাজশাহীকে করতে হবে ২৬৪ রান, হাতে আছে ৬ উইকেট। রাজশাহীকে ফলো অন না করিয়ে নিজেরাই ব্যাট করেছে চট্টগ্রাম, দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৭৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা দেন অধিনায়ক শাহাদাত হোসেন। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২১৯ রান। মেহেরব হাসান ৫৪ আর প্রীতম কুমার ৫৬ রানে অপরাজিত। শেষ দিনে জিততে আর ৬ উইকেট চাই চট্টগ্রামের।