গ্লোবাল ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড দেবে ইনস্টাগ্রাম

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে সরে এসে এবার স্বীকৃতির ওপর জোর দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম। সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের জন্য বিশ^ জুড়ে ২৫ জন ক্রিয়েটরকে সম্মানিত করতে একটি নতুন গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে মেটা-মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মটি। এই পুরস্কারের অংশ হিসেবে বিজয়ীদের কোনো অর্থ দেওয়া হবে না, তবে তারা পাবেন একটি বিশেষ নকশার সোনার আংটি এবং ডিজিটাল সম্মাননা। ১৬ অক্টোবর এই পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

ইনস্টাগ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটাই তাদের প্রথম ‘ইনস্টাগ্রাম অ্যাওয়ার্ড’। যারা সৃজনশীলতার গ-ি পেরিয়ে নতুন কিছু করছেন এবং নিজেদের কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছেন, মূলত তাদেরই এই পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হবে। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেক বিজয়ী ব্রিটিশ ফ্যাশন ডিজাইনার গ্রেস ওয়েলস বোনারের নকশা করা একটি সোনার আংটি পাবেন। এর পাশাপাশি তাদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ছবির চারপাশে একটি ‘ডিজিটাল গোল্ডেন রিং’ দেখা যাবে, যা তাদের এই স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া বিজয়ীরা নিজেদের পোস্টে একটি নিজস্ব ‘লাইক’ বাটন ডিজাইন করার সুযোগ পাবেন।

এই পুরস্কারের জন্য বিজয়ীদের বেছে নিতে একটি তারকাখচিত বিচারক প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এতে রয়েছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি, অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা স্পাইক লি, বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার মার্ক জেকব্স, প্রযুক্তিবিষয়ক জনপ্রিয় ইউটিউবার মার্কাস ব্রাউনলি, অভিনেত্রী ইয়ারা শাহিদি এবং মেকআপ শিল্পী প্যাট ম্যাকগ্রাথের মতো ব্যক্তিত্বরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেটার এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রতিষ্ঠানটি ক্রিয়েটরদের জন্য সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সরে আসছে। চলতি বছরের শুরুতে মেটা ক্রিয়েটরদের প্রোফাইলে বিজ্ঞাপন বসিয়ে অর্থ আয়ের একটি কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। এর আগে ২০২৩ সালে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের জন্য রিলস (জববষং) ভিডিও তৈরির বোনাস প্রোগ্রামটিও স্থগিত করা হয়।

শুধু মেটা নয়, বিশ্ব জুড়ে ক্রিয়েটর অর্থনীতিতেও একটি পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। সম্প্রতি কাজাবি নামের একটি সংস্থার সমীক্ষায় দেখা গেছে, ক্রিয়েটরদের জন্য ব্র্যান্ড ডিল কমেছে প্রায় ৫২ শতাংশ। ব্যাংক অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, স্পনসরশিপ এবং অর্থের বিনিময়ে অংশীদারত্ব ক্রমে শীর্ষস্থানীয় ক্রিয়েটরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ইনস্টাগ্রামের এই পুরস্কারকে অর্থ উপার্জনের চেয়ে সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জনের একটি নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘যারা সৃজনশীল ঝুঁকি নিতে ভয় পান না এবং নিজেদের মতো করে কাজ করেন, এই পুরস্কার তাদের উদযাপনের জন্য।’ কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও, এই পুরস্কারকে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য অস্কার’ হিসেবে তুলে ধরছে প্ল্যাটফর্মটি।