বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। আঘাতের পর এটি দুর্বল হয়ে এখন সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। তবে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে।
আইএমডির তথ্যানুযায়ী, বুধবার (২৯ অক্টোবর) ভোররাতে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় জেলা নারসাপুরের কাছ দিয়ে স্থলভাগে উঠে আসে। তখন এর অবস্থান ছিল নারসাপুর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরপশ্চিমে এবং মাচিলিপাটনাম থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। আঘাতের পর এটি ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় আরও দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা, পূর্ব গোদাবরী ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় ইতোমধ্যেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বইছে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো হাওয়া। এসব এলাকায় গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বাড়িঘর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হলেও তার প্রভাবে সারা ভারতে অন্তত আরও কয়েক দিন বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি চলবে। ৩ নভেম্বর পর্যন্ত জারি থাকা সর্বভারতীয় পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
২৯ ও ৩০ অক্টোবর ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, বিদর্ভ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশসহ সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশার কিছু এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
৩০ অক্টোবরের পর থেকে ঘূর্ণিঝড়টির বৃষ্টির প্রভাব ধীরে ধীরে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাবে। সেই সময় বিহার, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, অরুণাচল, অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গুজরাট ও কঙ্কণ উপকূলে আরব সাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। এসব এলাকায়ও ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে।
জেলেদের সতর্ক করে আইএমডি জানিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে সমুদ্র এখনো অশান্ত। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলেদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি কমে গেছে, তবু কাকিনাডা ও মাচিলিপাটনামের আশপাশের নিচু এলাকায় মাঝারি জলোচ্ছ্বাসে পানি ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আরব সাগরের মধ্য-পূর্বাঞ্চলে আরেকটি নিম্নচাপও সক্রিয় হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক দিন ভারতের উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে বৃষ্টি ও দমকা বাতাসের প্রবণতা বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।