এক সময় ভারতের একের পর এক ব্যর্থ রান তাড়ার সাক্ষী ছিলেন জেমিমা রদ্রিদেজ। ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসের ফাইনাল, ২০২৩ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল কিংবা গত বছরের শারজাহর সেই ম্যাচ—প্রতিবারই জয় হাতছাড়া হয়েছিল শেষ মুহূর্তে। এতসব অশ্রু, আক্ষেপ আর ব্যর্থতার পর অবশেষে হাসল ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। জেমিমার ব্যাটে ভর করেই গতকাল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত।
বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ডি.ওয়াই. পাতিল স্টেডিয়ামে ৩৩৯ রানের বিশাল টার্গেট তাড়ায় নেমে জেমিমা খেলেন ১৩৪ বলে ১৪ চারে ১২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। তিন নম্বরে নেমে ম্যাচ শেষ করে তিনি আবেগে ভাসেন। অথচ, টুর্নামেন্টজুড়েই তাকে কাঁদতে হয়েছিল। সময়টা তার পক্ষে ছিল না, ফর্ম হারিয়ে ফেলেছিলেন। বাদ পড়েছিলেন দল থেকে। আবারও যখন সেমিফাইনালের মঞ্চে সুযোগ পেলেন, তখন দেখিয়ে দিলেন নিজের ক্ষমতা।
ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা কণ্ঠে জেমিমা বলেন, ‘আমি খুবই উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। প্রতিটি ম্যাচের আগে মাকে ফোন করে কেঁদেছি। বুঝতে পারছিলাম না কী করব। আমার মা–বাবা, বন্ধু স্মৃতি মান্ধানা, অরুন্ধতী রেড্ডি আর রাধা যাদব আমাকে প্রতিদিন সাহস দিয়েছে। আমি একা ছিলাম না, এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি। যারা এমন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের জন্যই বলতে চাই—দুর্বলতা প্রকাশ করা লজ্জার কিছু নয়। সাহায্য চাইতে ভয় পেও না।’
তিন ম্যাচ আগে যিনি ছিলেন দলের বাইরে, তিনিই এখন ভারতের নায়িকা। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রান তাড়ায় জয় এনে দিয়েছেন ভারতকে। রদ্রিদেজ আরও বলেন, ‘আমি যিশুর প্রতি কৃতজ্ঞ। বাইবেলে লেখা আছে “রাত্রির পর আসে আনন্দের সকাল”। আজ সেই সকাল এসেছে, যদিও চোখে জল। ফিফটি বা সেঞ্চুরি নয়, আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম—দুই জায়ান্ট স্ক্রিনে লেখা থাকুক “ইন্ডিয়া জিতেছে”। আজ আমি সেই হাসি নিয়ে ঘুমাতে পারব।’