চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচে এসে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। তবে এদিনও ডট বল খেলা কমাতে পারেনি বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের ৮৯ রানে ভর করে বাংলাদেশ তোলে ১৫১ রান। তবে উইন্ডিজ ১৯ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় ম্যাচে। তাতে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।
গতকাল উইন্ডিজের জয়ে অবশ্য ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররাও। ক্যারিবিয়ানদের ইনিংসে তিনটি ক্যাচ মিস করেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। শরিফুলের অফ স্টাম্পের বাইরের বল আমির জাঙ্গুর ব্যাট ছুঁয়ে প্রথম স্লিপে যায়। সাইফ ছিলেন অপ্রস্তুত, ক্যাচ মিস করেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শেখ মেহেদি আথানেজকে ফেরার প্রথম উইকেটে দেখা পায় বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ৯ রানে দ্বিতীয় জীবন পান জাঙ্গু। এবার শরিফুলের বলে ক্যাচ ছাড়েন বদলি ফিল্ডার তাওহীদ হৃদয়। ষষ্ঠ ওভারে নাসুম কিংকে শূন্য রানে বোল্ড করলে দ্বিতীয় সাফল্য পায় লিটনের দল। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে উইন্ডিজ করে ২ উইকেটে ৩৭ রান।
জীবন পাওয়া জাঙ্গু শেষ পর্যন্ত ২৩ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৪ রান করে ফেরেন। তাকে আউট করেন রিশাদ। চতুর্থ উইকেটে রস্টন চেস ও আকিম অগুস্তের জুটিতে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ক্যারিবিয়ানরা। রিশাদ হোসেনের করা ইনিংসের ১৩তম ওভারে ২১ রান নেয় উইন্ডিজ। বলতে গেলে তখনই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। ওই ওভারেই আগুস্তের ক্যাচ ফেলেন বদলি ফিল্ডার তানজিম হাসান। ২৭ রানে বেঁচে যাওয়া অগুস্তে ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। চেস-অগুস্তের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ ৫ ওভারে উইন্ডিজের দরকার হয় মাত্র ৯ রান। চেস ২৯ বলে ৫০ এবং আগুস্তে ২৫ বলে ৫০ করে ফিরলেও ম্যাচ জিততে অসুবিধা হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
তার আগে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। ম্যাচে এক প্রান্ত আগলে রেখে টি-টোয়েন্টিতে নিজের সেরা ইনিংস খেলেন তানজিদ হাসান তামিম। সাইফ হাসান ছাড়া বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মধ্যে। উদ্বোধনী জুটিতে ওঠে ২২ রান। পারভেজ হোসেন ৯ বলে ১০ রান করে ফিরলে জুটি ভাঙে। অধিনায়ক লিটন দাসও ৯ বলে ৬ রান করেন। তৃতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়েন তানজিদ-সাইফ। সাইফ ফিরলে সেই জুটি ভাঙে। এরপর রিশাদ (৩), সোহান (১) নাসুমরা (১) এক অঙ্কের ঘরেই রান করেন। জাকেরও করেন মাত্র ৫ রান। শেফার্ডের করা ইনিংসের ১৯তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন তানজিদ। তার ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ৪ ছক্কা। ওভারটির দ্বিতীয় বলে বোল্ড হন শরিফুল (০)। তাতে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ক্যারিবিয়ান এই পেসার। এর আগে ইনিংসের ১৭তম ওভারের শেষ বলে আউট করেছিলেন নুরুল হাসানকে। শেষ ওভারে ৯ রান এলে দেড়শো পেরোয় বাংলাদেশের ইনিংস। রোমারিও শেফার্ড ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন।