ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের পদ্মা নদী থেকে রাত-দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনে কবলে পড়েছে ফসলি জমি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা রাসেদ খান ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। দিনের পর দিন বালু উত্তোলন করলেও দেখার যেন কেউ নেই।
এ নিয়ে বিক্ষুব্দ স্থানীয়রা বিভিন্ন দপ্তরে মৌখিক অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হয়নি।
অভিযোগে জানা গেছে, নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মা নদীর ক্যানেল থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু কাটছেন এ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। কোন প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে বালু কেটে চলেছেন রাশেদ খান। এসব বালু তিনি চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। বর্তমানে তিনি হরিরামপুর ইউনিয়নে নির্মিতব্য ‘মুজিব কেল্লায়’ বালু সরবরাহ করছেন।
স্থানীয় একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন রাশেদ খানের নেতৃত্বে বালু কাটার মহোৎসব হয়েছিল। সেই সময় প্রভাবশালী এই ব্যক্তির ভয়ে কেউ টু শব্দটিও করতে পারেননি। ফলে নদীর পানি কমতে শুরু করায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় গত কয়েকদিন শতাধিক একর ফসলি জমি ভাঙনে পড়ে বিলিন হয়েছে। বর্তমানে আরও বেশ কিছু জমি হুমকির মুখে রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকেরা জানান, অবৈধভাবে বালু কাটার বিষয়ে রাশেদ খানকে নিষেধ করা হলেও তিনি কারোর কোনো কথাই শুনছেন না। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহিদ খান বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে দেখে ইউএনওকে জানানো হবে।
অভিযোগ স্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ খান বলেন, সরকারি কাজে অল্পকিছু বালু দিয়েছিলাম। তবে শনিবার (০১ নভেম্বর) সকালে থেকে বালু কাটা বন্ধ করে দিয়েছি।
এবিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সকালে জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর উপজেলার ভূমি কর্মকর্তাকে (এসিল্যান্ড) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি জানার পর পরই পদ্মা নদীর ক্যানেল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।